fbpx
           
       
           
       
অতঃপর শোকর
জুন ২৮, ২০১৬ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
tarabi
আবরার বিন আফতাব :
উদ্ভ্রান্ত দিশেহারা ব্যক্তির মতো দিকবিদিক ঘুরে বাড়ি ফিরছি গত কয়েকদিন ধরে। মায়ের আহার ডাকেও সাড়া দিতে মন চাচ্ছে না। অস্থির অবস্থায় বাসায় পায়চারির মাঝেই থাকছি সর্বদা। স্থির হতে পারছি না কিছুতেই। আর হবোই বা কি করে, মাত্র দু’দিন বাদেই রোজা, তারাবি সব একসাথে।
এবার ভাগ্য আমার ডাকে একদমই সাড়া দিচ্ছে না। তারাবি ঠিক হয়নি এখনো। লজ্জা, অভিমান দুটোই একসাথে হচ্ছে এবার। সকাল হলে ইন্টার্ভিউ দিতে যাওয়া আর রাত হলে ফোন করে জানিয়ে দেয়া, আগামিবার আপনাকে দেখব ইনশাআল্লাহ। আর বলার দরকার হয় না যে ‘সাহেব’ আমাকে কি বোঝাতে চাচ্ছেন।
এভাবে দিন পার হয়ে গেল, রাতও্ গড়াল,বাকি আছে আর মাত্র একদিন, তারপরেও কিছুতে কিছুই হলো না। দিনভর ক্লান্তি দূর করতে বালিশে মাথা রাখতেই আব্বুর উপস্থিতি অনুমান করি। ঘর্মাক্ত চেহারা দেখে কাছে এসে বসা, আর মাথাই হাত বুলিয়ে ‘তুই কোনো চিন্তা করিস না বাবা দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে। অন্যান্যবার যেমন হয় এবারও দেখবি হবে’ একথা বলে সান্ত্বনা দেয়া, এটা একমাত্র বাবারাই করে, যেমনটি আমার বাবা করে।
আজ ঘুম থেকে কেন যেন আজানের অনেক আগেই উঠে পড়লাম,বসে আছি বিছানার উপরে, ভাবনাহীন মনে বাবার কথাগুলো বারংবার হৃদয়ের কর্ণকুহরে ঝংকার তুলছে।কী মনে করে বাবার ঘরে গিয়ে আনমনে তাকিয়ে থাকলাম খেটে আমাকে মানুষ করা বাবার দিকে।একটু বেশিই নিষ্পাপ লাগছিল বাবাকে আজ। আবার ঘরে এসে বসতেই মুয়াজ্জিনের নামাজের আহ্বান। কুকুরগুলোর হাঁকডাকের সমই এগুলো, গগণবিদারি আওয়াজ তুলে তারা ঘেও ঘেও করতে থাকে।এখনও করছে। এগুলো নিয়ে গ্রামের মানুষের মাঝে অবশ্য অনেক মিথ চালু আছে।
তারাবি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ আরবেরা নাকি গতকালই নামাজ পড়েছে! সবার প্রস্তুতির ধরণ দেখে আরও বেশি মনে হচ্ছে যে আজ তারাবি। ‘মারিয়া বুক কর্ণার’ আমাদের থানা শহরে সবচেয়ে অভিযাত বইয়ের লাইব্রেরি। আমি কোনো বই কিনতে হলে সেখানেই যাই, কারণ মারিয়া নামের সাথে এক অন্য ইতিহাস জড়িয়ে আছে। অনেক ভাল একটা মেয়ে ছিল,কিন্তু কিভাবে কিভাবে যে মৃত্যু হল আল্লাই মালুম। দোকান থেকে রাকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজের প্রথম এবং দ্বিতীয় ভলিউম কিনলাম। তারাবি নেই কোনো ব্যস্ততা নেই, তাই বই পড়ে টাইম পাস করব মনে করেই বই কেনা। ফেরার পথে রাস্তাই দুজন মান্যবর ব্যক্তি আমার অবস্থা শুনে খুবই আফসোস করল। আর এটা তাদের কাছে খুবই সস্তা, যখন যাবেন তখনই চেষ্টা করলে আশা করি পাবেন! শুধু পাবেন বললে কম হয়ে যাবে,আপনি পুরোপুরিই পাবেন।
প্রথম তারাবি শেষ করে বাড়ি ফিরছি,পথিমধ্যে মামুন ভাইয়ের ফোন,আবরার তুই কোথায়? জবাবের অপেক্ষা না করেই বললেন; এখনই ঢাকা রওনা দে, যত দ্রুত পারিস আমার কাছে পৌছে যা।আমিও তাই করলাম। তারাবি হল ঠিকই কিন্তু একদিন পরে হল। সেবার তারাবি হলো ঢাকার খুব ভাল এক মহল্লায়। মানুষগুলো খুব ভাল, আদরও করত,  ছোট বলে। কৃতজ্ঞতার মালাগুলো মামুন ভাইয়ের গলায় রাখলাম ।
আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম /আরআর
সর্বশেষ সব সংবাদ