198151

ইসলামফোবিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য চায় তুরস্ক

বেলায়েত হুসাইন: বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান ইসলামফোবিয়ার (ইসলামভীতি) বিস্তার রোধে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য চায় তুরস্ক। এজন্য মুসলিম দেশগুলোর একত্রে আওয়াজ তোলার ওপরও জোর দিয়েছে দেশটি।

গত ৯ সেপ্টেম্বর তুর্কি ধর্মমন্ত্রী আলি এরবাশ একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সংহতি ও ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে এ ইচ্ছার কথা জানান। কনফারেন্সে পাকিস্তানের ধর্মমন্ত্রী পীর নুরুল হক কাদেরিও অংশ নেন।

এসময় আলি এরবাশ বলেন, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সম্প্রতি ইউরোপের পাশাপাশি ভারত এবং মায়ানমারেও ইসলামফোবিয়ার বিস্তার বেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে; মুসলিম হিসেবে আমাদের পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতির বিকল্প নেই।

তার দাবি, এক্ষেত্রে পূন্যময়ী নগরী আল কুদস (জেরুজালেম) বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার অন্যতম প্লাটফর্ম হতে পারে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্ক এবং পাকিস্তানের অভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে আলি এরবাশ বলেন, উভয় দেশ কাশ্মীরে ভারতের চলমান আগ্রাসন সম্পর্কেও অবগত। কাশ্মীরিদের ওপর ভারত সরকারের অত্যাচার বন্ধে বিশ্ববাসীকে সজাগ করতে দুই দেশই সচেষ্ট রয়েছে। তা ছাড়া তুরস্ক ও পাকিস্তান সবসময় মজলুমদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তুর্কি ধর্মমন্ত্রী মনে করেন, পাকিস্তান তুরস্কের সত্যিকারের মিত্র। গত ২৪ জুলাই ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া মসজিদ পুনরায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য খুলে দেয়ায় পাকিস্তানের অভিনন্দনবার্তা প্রেরণ পাক-তুর্কি দ্বিপাক্ষিক মিত্রতার সবশেষ উদাহরণ।

এদিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তুর্কি ধর্মমন্ত্রীর সাক্ষাতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পাক ধর্মমন্ত্রী নুরুল হক কাদেরি। আলি এরবাশের কথার সমর্থন জানিয়ে কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং এজন্য প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িব এরদোগানকে তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

ফিলিস্তিন, কাশ্মীর ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের কথা স্মরণ করে নুরুল হক কাদেরি বলেন, এটি জাতিগত কোন ইস্যু নয়; বরং মানবিক স্বার্থ। বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে না দেখে সবাইকে তা জালিম-মজলুম হিসেবে বিবেচনা করার আহবান জানান। সূত্র: আনাদুলু এজেন্সি আরবি

-এএ

ads