fbpx
           
       
           
       
কওমি শিক্ষকদের সামনে আরও কঠিন সময়
জুন ০৪, ২০২০ ৪:৩৫ অপরাহ্ণ

সুফিয়ান ফারাবী।।
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট>

করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ দেশের সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সংক্রমনের এই মুহূর্তে স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি, জামেআ সবকিছুই এই মুহূর্তে বন্ধ। প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে মাধ্যমে ৩০ মে’র পর সাধারণ ছুটি বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ১৫ জুনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে না। গণপরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত হবে।

তার বক্তব্যের পর কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছিল বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা অঙ্গনে। অনেকে ভাবতে শুরু করেছিলেন হয়তো ১৫ জুনের পরে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হবে।

কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকদের আবারো চিন্তায় ফেলে দেয়।

পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়া হবে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে না। সুতরাং এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা করছে না সরকার।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, তোমরা ঘরে পড়াশোনা চালিয়ে যাও। সময়টাকে কাজে লাগাও। এই সময়টাকে অপচয় করো না।

সরকারপ্রধানের মুখে এমন কথা শুনে অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৫ জুনের পর কোনক্রমেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। বরং পরিস্থিতি উন্নতির উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সরকার ও প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গত তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না দেশের অধিকাংশ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। অন্য কোনো আয়ের উৎস না থাকায়, যায় যায় অবস্থা তাদের পরিবারে।

নারায়ণগঞ্জের একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা জুনায়েদ (ছদ্মনাম)। পেশাগত জীবনের শুরু করেছেন যে মাদ্রাসা থেকে আজ অবধি সেখানেই রয়েছেন। মাদ্রাসার জন্য নিজের সর্বোচ্চ দিয়েছেন। যার ফলে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ তাকে মাদ্রাসার উন্নয়নের লক্ষ্যে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে পদায়ন করেন।

সারাজীবন মাদ্রাসার জন্য কষ্ট করেছি। শুধুমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য। এখনো মাদ্রাসার চিন্তা নিয়ে মগ্ন থাকি। রমজান চলে গেল। সেভাবে কালেকশন করতে পারিনি। আমাদের প্রিন্সিপাল সাহেব অসুস্থ। মাদ্রাসার সকল বিষয় দেখাশোনা করতে হচ্ছে আমাকে। আমি ছাড়া আরো ১৬ জন শিক্ষক মাদ্রাসায় কর্মরত। মার্চ মাস থেকে তাদের বেতন বাকি। মাদ্রাসার ফান্ডে টাকা নেই। শিক্ষকদের কোনভাবেই সহযোগিতা করতে পারছিনা

আমার তিন ছেলে মেয়ে। মাদ্রাসার পাশে একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকি। প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা ঘর ভাড়া। কয়েক মাস ধরে ঘর ভাড়া দিতে পারছিনা। এপ্রিল মাস কাটিয়েছি ধারদেনা করে। মে মাসে কারো কাছ থেকে কোনো কর্জ পাই নি। মানুষের অবস্থাও খারাপ।

সবার পকেটে টানাটানি চলছে। তারাও বা কোত্থেকে দিবে? মে মাস কেটে গেল। ডাল আলু ভর্তা খেয়েছি পুরো মাস। বাড়ি ভাড়া সহ ৫০ হাজার টাকা ঋণী এখন আমি। জানিনা কবে মাদ্রাসা খুলবে। কবে বেতন পাব। কবে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধ করব। আওয়ার ইসলামের কাছে এভাবেই বলছিলেন মাওলানা জুনায়েদ।

মাওলানা জুনায়েদ একা নন। প্রায় প্রতিটি মাদ্রাসার শিক্ষকদের চিত্র একই। কেউ চলছেন ধারদেনা করে। কেউ চলছেন চালে ডালে। কেউ রাজ্জাকের পায়ে সেজদারত অবস্থায় কাঁদছেন।

দুঃখ-দুর্দশার দিন পেরিয়ে আবার কবে উদিত হবে সুখের সূর্য, সেই দিনটি দেখার অপেক্ষায় পুরো কওমি সমাজ।

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ