বিশেষ প্রতিনিধি
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১টি দল নিয়ে জোট বা সমঝোতা হওয়ার আলোচনা গত কয়েক মাস ধরে চলছে সেটা শেষ মুহূর্তে এসে হোঁচট খেয়েছে। আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে চরম বিভেদ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সুরাহা করতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন এই জোট বা সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এগার দলের আসন সমঝোতার বিষয়টি জানানোর কথা ছিল। সেজন্য সংবাদ সম্মেলনও ডাকা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে এসে সেই সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এতে যোগ দেবে না বলে আগেই জানায়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকও যোগ দিতে অনীহা জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে তিনি শীর্ষ নেতাদের পুনরায় বসার ব্যবস্থা করেন।
গতকাল রাতে সব দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তবে সেখানেও কোনো সমাধান আসেনি। জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। ফলে এই জোট ভাঙনের মুখে পড়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাদে বাকিদের নিয়ে জোট ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন তাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা সম্মানজনক অবস্থান না পেলে জোট বা সমঝোতায় যাবে না। একবাক্স নীতিটি তাদের উদ্ভাবন, তারাই সবাইকে এখানে সম্পৃক্ত করে। কিন্তু তাদের সঙ্গে দাদাগিরিসুলভ আচরণ করে জামায়াতে ইসলামী। চাহিদার তুলনায় আসন সংখ্যা কম দেওয়ার পাশাপাশি জামায়াতের আচরণেও তারা মনঃক্ষুণ্ন। অনাস্থা ও অবিশ্বাস জন্ম নেওয়ায় এই জোটের ভবিষ্যৎ ভালো দেখছেন না ইসলামী আন্দোলনের নীতি-নির্ধারকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত চরমোনাই পীর সাহেবের নেতৃত্বাধীন দল এই জোটে না থাকলে এর তাৎপর্য ও কার্যকারিতা অনেকটা হারাবে। জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলোর তেমন কোনো ভোট ব্যাংক নেই। তাছাড়া শেষ পর্যন্ত সবাইকে নিয়ে একটা জোট বা সমঝোতা ঘোষণা এলেও মাঠের রাজনীতিতে এর পুরোপুরি প্রভাব পড়বে না।
এমএন/