সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬ ।। ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৭ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
জুলাই জাদুঘরে ভাস্কর্যের বিকল্পে হেফাজতের দুই প্রস্তাব পাকিস্তানে হজ প্যাকেজ ঘোষণা, সর্বনিম্ন ১২ লাখ রুপি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পরাজয় জেনেও প্রার্থী দেওয়া বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা: মাওলানা ইউসুফী ৯ মাসের বেতন বকেয়া, চালডালের প্রধান কার্যালয়ে কর্মীদের অবস্থান জুলাই জাদুঘর থেকে নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণের কড়া হুঁশিয়ারি হেফাজতের বিভিন্ন দলের দায়িত্বশীলসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিকেএমে যোগদান ফের বিক্ষোভে উত্তাল ভারত, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও জলকামান প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, জনতা ব্যাংকের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের চুক্তি উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি হালাল খাবার ও ধর্মীয় অনুশাসনসম্মত পরিবেশে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই জাদুঘর থেকে নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণের কড়া হুঁশিয়ারি হেফাজতের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্য স্থাপনকে শরিয়তের বিধানের লঙ্ঘন এবং আলেমদের আত্মত্যাগের সঙ্গে ‘চরম বৈপরীত্য’ ও ‘উপহাস’ বলে মন্তব্য করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে যেকোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। ব্যক্তির মর্যাদা, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধান উপেক্ষা করে ভাস্কর্য নির্মাণের সুযোগ নেই।

তারা বলেন, যারা জীবনভর ইসলামের আকিদা, ঈমান ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের নামে ভাস্কর্য নির্মাণ করে ইসলামি বিধানের লঙ্ঘন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যেসব আলেম জীবন দিয়েছেন ও কারাবরণ করেছেন, আজ তাদের অবয়বেই ভাস্কর্য নির্মাণ করা ‘মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য’ বলেও মন্তব্য করেন তারা।

হেফাজতের আমির ও মহাসচিব বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদ ও আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগ জাতি অবশ্যই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তবে সেই স্মৃতি সংরক্ষণের পদ্ধতি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়া উচিত নয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে ভাস্কর্যের পরিবর্তে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

সংগঠনটির প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—আন্দোলনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরতে জাদুঘরে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ এবং প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২০২১ সালের মোদি-বিরোধী আন্দোলনসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদি জনতার ত্যাগের ইতিহাস এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবায়ে কেরামের কোনো ভাস্কর্য ছিল না; অথচ তাঁদের আদর্শ আজও বিশ্বজুড়ে আলো ছড়াচ্ছে। তাই ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে আত্মত্যাগকারী আলেম ও আন্দোলনকারীদের ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের গড়িমসি না করে জুলাই জাদুঘর থেকে ভাস্কর্যগুলো দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়ে হেফাজতের নেতৃদ্বয় বলেন, অন্যথায় আলেম সমাজ তাদের নীতি ও আকিদা রক্ষায় নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ