নিজস্ব প্রতিবেদক
আলেমদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সৌজন্যপূর্ণ ও আন্তরিক সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন আলেম লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কৌশল বা পরিস্থিতিগত প্রয়োজন থেকে কোনো সৌজন্য ও আন্তরিকতা তৈরি হলেও তা যদি দ্বীন ও দ্বীনের মানুষদের প্রতি শাসকদের বিনয় ও সৌজন্য বাড়ানোর দিকে এগিয়ে যায়, তাতে ক্ষতির কিছু নেই।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
হেফাজত আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি আন্তরিকতাপূর্ণ ছবি শেয়ার করে মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ লেখেন, ‘কয়েকটি আন্তরিকতাপূর্ণ ছবি। এসবের মধ্যে রাজনীতি আছে, নাকি নাই? ধরুন, সব কয়টি ছবিই রাজনীতিতে ভরা। তবুও কি দেখতে ভালো লাগছে না?’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মধ্যবয়সি একজন রাষ্ট্রপ্রধান শীর্ষ একজন আলেমের পাশে বিনয়ের সঙ্গে বসে আছেন, হাত ধরে আছেন—এমন দৃশ্য এর আগে কবে দেখেছেন?’
তবে এসব দৃশ্য দেখে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস বা বিভ্রমে না পড়ারও পরামর্শ দেন তিনি। মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘না, বিভ্রমে পড়ার কিছু নাই। এসব বিনয় ও আন্তরিকতার অনেক কিছুই সৌজন্যমূলক অথবা পরিস্থিতি-সংশ্লিষ্ট অথবা রাজনৈতিক কৌশলপূর্ণ। অসুবিধা কী?’
তিনি আরও বলেন, ‘সৌজন্য ও আন্তরিকতা একটু একটু অগ্রসর হোক। দ্বীনের প্রতি, দ্বীনের মানুষদের প্রতি শাসকদের বিনয় ও সৌজন্য একটু একটু বাড়ুক। ক্ষতি কী?’
সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবতা ও সীমারেখা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি লেখেন, ‘জায়গামতো রেখে, জায়গামতো থেকে সম্পর্ক ও সৌজন্যকে দেখতে পারলে কোনো সমস্যা নেই। অতি উচ্ছ্বাস ও বিভ্রমে পতিত না হলে বিশেষ ক্ষতি নেই।’
সামনের দিনগুলোতে এসব সৌজন্য ও নৈকট্যের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি বা হতাশাজনক অভিজ্ঞতা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘হতে পারে সামনের দিনগুলোতে এসব সৌজন্য ও নৈকট্যের কিছু কিছু ব্যতিক্রম ঘটবে, কিছু কিছু মন খারাপ হওয়া তৈরি হবে। এমন হয়।’
তবে এরপরও ইতিবাচক সম্পর্ক ও ভালোত্বকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এই লেখক। তিনি বলেন, ‘তারপরও ভালোত্বকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘সৌজন্যকে সৌজন্যের চোখে দেখা এবং সৌজন্যকে পুণ্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। যতটুকু হয়, যতটুকু সম্ভাবনা থাকে, যতটুকু আগানো যায়।’
আরএইচ/