|| মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী ||
আধুনিক যুগে একটি প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রকে অস্বীকার করা বা আংশিক জনগণের মনের মতো নতুন করে রাষ্ট্রের পুনর্জন্ম দেওয়ার সুযোগ নেই। বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ণ সংস্কার করা যায়। যেটি আগষ্টের করনেওয়ালারাই করেনি। এখন সংবিধান বহাল থাকায় রাষ্ট্রের সবই বহাল আছে। সরকার পরিচালনার ভার ২১৯ সিট ওয়ালা জোটের হাতে এসেছে।
তারা একদল লোকের পক্ষ থেকে তাদের মত ও স্বার্থের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কার প্রস্তাব হুবহু মানতে চাইবে না, এমনটি হতে পারে। আর এ অবস্থায় বিরোধী জোটের কর্তব্য, সর্বোচ্চ চেষ্টা করে নিজেদের যৌক্তিক দাবী ও পরিমিত চাহিদা পূরণ করে নেওয়া। এর আগে এসব চাহিদা বাস্তবায়নের অন্য অনেক পথ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু এসব হিসাব করে পদক্ষেপ নেওয়ার মতো চিন্তাশীল, বোদ্ধা ও একস্ট্রা অর্ডিনারী খেলোয়াড় তাদের মধ্যে আছেন বলে অন্তত গত দুই বছরের ভূমিকা থেকে বোঝার উপায় ছিল না।
আরও পড়ুন: ঘরে বসেই আধুনিক সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল লেখালেখি শেখার সুযোগ
এখন তাদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চটুকু আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি পরে আরো ভালো করার নিশ্চয়তা, আত্মবিশ্বাস ও মনোবল থাকলে তারা ৭০টির মতো আসন ছেড়ে দিয়ে অলআউট রাজপথে নেমে আসার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। কিন্তু অতি সম্প্রতি ভোটদাতা বিপুল সংখ্যার জনগণ এখনই এমনটি চায় বলে মনে হয় না।
সময়ে বিরোধী দলের ভোটাররা এটি চাইতেও পারে। এমনটি মনে প্রাণে চাওয়ার মতো শক্তিশালী একটি পক্ষও দেশে বিদেশে রয়েছে। বিএনপিও কোনো সময় এতে কোনরূপ বিব্রত না হয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনে নেমে যাওয়া মেনে নিতে পারে। তখন বিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে একা হয়ে যেতে হবে। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে সংসদ অচল, ঘেরাও ও দেশ বন্দ ঘোষণা করে বাস্তবেই সরকার ফেলে দিতে সক্ষম না হলে কেবল হুমকি ধামকি দিয়ে নিজেদেরই বিপদে পড়ে যেতে হবে। যেমন বাংলাদেশ থেকে বিএনপির চিহ্ন মুছে দেওয়ার প্রত্যয়ের কথা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
এ কথা স্পষ্ট যে, বিপ্লবী সরকার গঠন করলেই কেবল সংবিধান বাতিল করা যায়। প্রেসিডেন্টকেও ঝেড়ে ফেলা যায়। এসব অস্বাভাবিক অবস্থায় নির্বাচন দিয়ে গনতান্ত্রিক সংসদ গঠনের আগে সংস্কারের কাজ সারার কিছুটা সময় ও সুযোগ থাকতে পারে। সংসদ গঠন হয়ে গেলে সংশোধনীর মাধ্যমেই সংস্কারের কাজ করতে হয়। বর্তমানে সংশোধনী আনার মতো দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি মেজরিটি বিএনপির আছে।
এখন কমিটি করে জুলাই সনদের আলোকে সব আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করা দরকার। রাষ্ট্রপতির অভিশংসন বিএনপির এমপিদের ওপর নির্ভর করে। তাঁর পদত্যাগ করাও বিএনপির চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। রাজনৈতিক হিসাবে মিললে তারা এসব করবে অথবা বিভিন্ন বিবেচনা থেকে সুবিধা মনে হলে করবে না। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের তেমন করনীয় নেই। তবে সংবিধানের সবরকম সংশোধনী কমিটিতে আলোচনা করে সংসদে পাস করার সুযোগ আছে। আমূল পরিবর্তন বা নতুন রচনার সময় আগস্ট ২৪ এ চলে গেছে। এখন যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই করা যায়। নয়তো রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের চেষ্টা করা যায়। সংসদ ও রাজপথে যুগপদ আন্দোলন সংগ্রামের পথে অগ্রসর হওয়া যায়। চূড়ান্ত ফলাফলে সংসদ থেকে পদত্যাগও করা যায়।
প্রয়োজন পরিমাণ শক্তি, দম ও বৈশ্বিক সমর্থন থাকলে বিএনপি দ্রুত শূন্য আসনে উপনির্বাচন দিয়ে আর কোনো শক্তিকে বিরোধী দল হিসাবে সংসদে এনে সরকার পরিচালনা করবে। বিরোধী জোটকে সাধ্য মতো মোকাবেলা করেই দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবে। এরপরেও পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় যদি আগষ্টের মতো গণআন্দোলন গড়ে ওঠে আর দেশে সমন্বিত শক্তির সমন্বয়ে নতুন অভ্যুত্থান হয়, তাহলে এই সরকার ও সংসদেরও অবসান ঘটবে। এরপর দেশ ও জাতির কী হবে? এসব সংগঠন, শৃঙ্খলা ও একটিভিজমের বলে বলীয়ান সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব, বুঝমান আইনজ্ঞ ও রাজনীতিবিদরাই ভালো বলতে পারবেন।
লেখক: জ্যেষ্ঠ আলেম সাংবাদিক ও রাষ্ট্রচিন্তক
আইও/