শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেটের জামেয়া আশরাফিয়া ইসলাম নগর মাটিজুড়ার বার্ষিক মাহফিল ৮ নভেম্বর ইসলামী যুব আন্দোলন খুলনা মহানগরের সভাপতি আব্দুর রশিদ, সম্পাদক মুফতি মঈনুল ইসলাম রাজধানীতে বৈশাখী পরিবহনের বাসে আগুন  বৃষ্টি নিয়ে আবারও সতর্কবার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের গণভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে সরকার: আমিরে মজলিস জুহাইমানের দখলে কাবা, দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল জুমার খুতবা দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধন বাবুনগর মাদরাসার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক মজলিসের জামিয়া কাসিমুল উলূমের ৮৫তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ৭ নভেম্বর  

বাবুনগর মাদরাসার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার দুই দিনব্যাপী ১০৪তম বার্ষিক দীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জুমার নামাজের আগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহাম্মদ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন। এ ছাড়া ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে এবং আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও দ্বীন, দেশ ও ফ্যাসিবাদী ইসলামবিদ্বেষী সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর লেগেছে। আর ফ্যাসিবাদী, ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে লেগেছে ১৬-১৭ বছর। এ সময়ে আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজের অনেকে শহীদ হয়েছেন। তাঁদের অনেকের নাম ও কবরের ঠিকানাও এখনো জানা যায়নি। অসংখ্য মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদী সরকারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, শুধু জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগে ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। আমিও তাঁদের একজন ছিলাম। আল্লাহর রহমত ও মানুষের দোয়ায় বেঁচে আছি। এ সময়ে প্রায় ৭ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ হামলা-মামলার মাধ্যমে নিপীড়িত হয়েছেন।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, দেশের মানুষ কি আবার ফ্যাসিবাদীদের প্রত্যাবর্তন চায়? যারা গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের পেছনেও ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যে কয়েকটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ দেশে কিছু দুষ্কৃতকারী ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করছে, অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলামের প্রতিফলন নেই। যারা নিজেদের ইসলামী দল বলে পরিচয় দেয়, তাদের দলীয় ইশতেহার ও ঘোষণাপত্রেও এর প্রমাণ পাওয়া যায় না।

নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাস করি। আমরা বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছি, কোরআন তিলাওয়াত করেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি। দেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সবার একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির মধ্যে কোনো বিভেদ দেখতে চাই না। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা অনুযায়ী দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের বিষয়গুলোও সংবিধানে ধারণ করা হবে।

 

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি থেকে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি বাদ দিয়েছিলেন। সরকার তা পুনঃস্থাপন করবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি আবারও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁরা সেই রাজনৈতিক ধারার অনুসারী।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও দলীয় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে বিতর্ক ও মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে একটি বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে—যারা এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর আলেম-ওলামার রক্ত ঝরিয়েছে, মসজিদকে রক্তাক্ত করেছে এবং মানুষকে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে দেয়নি, দেশের মানুষ সেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর কখনো রাজনীতি করতে দেবে না।

এসএইচ/  


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ