বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ ।। ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বর্তমান জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। আজকে একে অপরকে কথা বলার সুযোগকে যেভাবে বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখেছি, এটা সংসদের জন্য ভালো লক্ষণ না।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে স্পিকার বলেন, অনেক কষ্টের পরে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। গণতন্ত্র যাতে বহাল থাকে সেই জন্য প্রতিটা সংসদ সদস্যের দায়িত্ব রয়েছে। আপনাদের বলবো সংসদের রুলস অব প্রসিডিউর পড়ুন। স্পিকার যখন কথা বলে তখন সবাইকে বসে শুনতে হয়। এই আইন-নীতি যদি না মানেন, ভঙ্গ করেন তাহলে এই সংসদ বেশিদিন চলবে না।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লা-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্ন বুঝতে পারেননি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার, এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো বুঝতে পারিনি।

এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ঘিরে সংসদে হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি কথাই না বলতে দেন, তাহলে কীসের বাকস্বাধীনতা।

এর পরেই হট্টগোল শুরু হয় সংসদে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানানো হয় বিরোধীদলের পক্ষ থেকে।

এরপরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমার বক্তব্যে যদি এভাবে কমেন্টস করা হয়, তবে আমার বক্তব্য দেওয়ার দরকার নাই। নতুন করে এই শব্দগুলো উচ্চারণ শুরু করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) নিজেকে কী মনে করেন। তিনি শুরু থেকেই সংসদে দুঃশাসন দেখিয়েছেন। তিনি শুরু থেকেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দেন। আমরা তার ছাত্র হিসেবে এখানে আমি নাই। উনি শিক্ষক হলে তিনি ইউনিভার্সিটি খুলুন, সেখানে উনি বক্তব্য দিতে পারবেন। এটা ফ্যাসিবাদের সংস্কৃতি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি উনাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পরে স্পিকার বলেন, সংসদে কথা বলার স্বাধীনতা আপনাদের রয়েছে। আমি দেখলাম বিরোধীদলীয় নেতা যখন দাঁড়ালো উনার পেছনে সবাই দাঁড়িয়ে গেল। কাউকে বসানোই যায় না। সংসদ কথা বলার জায়গা। কথার মাধ্যমে একে অপরের যুক্তিকে খণ্ডন করা যাবে। আমি আজকে বিরোধীদলীয় দলের প্রস্তাব খতিয়ে দেখবো। কিন্তু আপনারা কথা বলার স্বাধীনতা হরণ করবেন না। শব্দ করে বিচারের বাণীকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাকে সংসদ পরিচালনা করতে দিন।

স্পিকার বলেন, আমি আমার জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে সংসদ পরিচালনার করার চেষ্টা করছি। বিগত ৪০ বছর ধরে এই জাতীয় সংসদে আছি। অতীতে অনেক খারাপ রেকর্ড আছে। আমরা বলতে পারি অতীতের তুলনায় আমরা ভালো সংসদ পেয়েছি। আমরা উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ জানাবো।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ