আওয়ার ইসলাম ডেস্ক:
নামাজ মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামাজের মাধ্যমে বান্দা তার রবের সামনে দাঁড়ায়। তাই নামাজের সময় এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা নিজের কিংবা অন্য মুসল্লির নামাজের একাগ্রতা ও খুশু-খুজুতে ব্যাঘাত ঘটায়। বর্তমান সময়ে প্রায় সবার হাতেই মোবাইল ফোন। ফলে মসজিদে নামাজের সময় হঠাৎ মোবাইল বেজে ওঠার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। কখনো দেখা যায়, ফোনের রিংটোন একের পর এক বাজছে; অথচ নামাজরত ব্যক্তি কী করবেন বুঝতে পারছেন না। ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা তুলে ধরা হলো।
নামাজের আগে মোবাইল সাইলেন্ট করা উচিত
মুসল্লির কর্তব্য হলো, নামাজ শুরু করার আগেই মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া অথবা অন্তত সাইলেন্ট করে রাখা। বিশেষ করে মসজিদে প্রবেশের পর নামাজের জন্য দাঁড়ানোর আগে মোবাইলের রিংটোন বন্ধ করা উচিত। এতে নিজের নামাজে যেমন বিঘ্ন ঘটবে না, তেমনি আশপাশের মুসল্লিদের নামাজেও কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।
নামাজের মধ্যে হঠাৎ মোবাইল বেজে উঠলে
কোনো কারণে নামাজের আগে মোবাইল সাইলেন্ট করতে ভুলে গেলেন এবং নামাজের মধ্যে ফোন বেজে উঠল—তখন প্রথমে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যদি অল্প নড়াচড়ার মাধ্যমে এক হাত দিয়ে মোবাইলের রিং বন্ধ করা সম্ভব হয়, তাহলে নামাজের মধ্যেই তা বন্ধ করে দেওয়া যাবে।
যেমন—মোবাইল প্যান্ট বা পাঞ্জাবির পকেটে রয়েছে এবং এক হাত পকেটে ঢুকিয়ে মোবাইল বের না করেই একটি বোতাম চাপ দিয়ে রিং বন্ধ করা যায়। এ ধরনের সামান্য কাজকে ‘আমলে কালীল’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এতে নামাজ নষ্ট হয় না।
মোবাইল বের করে দেখা উচিত নয়
তবে মোবাইল বের করে স্ক্রিন দেখা, কে ফোন করেছে তা দেখা, নম্বর যাচাই করা কিংবা এরপর কল কেটে দেওয়ার মতো একাধিক কাজ করা উচিত নয়। এতে অতিরিক্ত নড়াচড়া হয়ে ‘আমলে কাছির’-এর পর্যায়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর আমলে কাছিরের কারণে নামাজ ফাসেদ হয়ে যেতে পারে।
তাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো—জেবের ভেতর থেকেই এক হাত দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব রিং বন্ধ করে দেওয়া।
কখন নামাজ ভাঙার প্রয়োজন হতে পারে?
সাধারণ অবস্থায় শুধু মোবাইল বন্ধ করার জন্য নামাজ ভেঙে ফেলা উচিত নয়। যদি সামান্য নড়াচড়ার মাধ্যমে ফোন বন্ধ করা সম্ভব হয়, তাহলে নামাজ না ভেঙেই তা বন্ধ করতে হবে।
তবে এমন পরিস্থিতি হতে পারে, যখন মোবাইলের রিং বারবার বাজছে, তা বন্ধ করার জন্য আমলে কাছির ছাড়া উপায় নেই এবং এর ফলে নিজের ও অন্য মুসল্লিদের নামাজে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে নামাজ ভেঙে মোবাইল বন্ধ করার অবকাশ রয়েছে।
বিশেষ করে রিংটোনে গান বা বাদ্যযন্ত্রের শব্দ থাকলে বিষয়টি আরও গুরুতর। এ ধরনের রিংটোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।
অন্য মুসল্লির মোবাইল বাজলে কী করবেন?
এ সময় আশপাশের মুসল্লিদের উচিত ধৈর্য ধারণ করা। নামাজরত অবস্থায় অন্যকে ইশারা করে, কথা বলে বা নিজে তার মোবাইল বন্ধ করার চেষ্টা করা ঠিক নয়। যে ব্যক্তির মোবাইল বেজেছে, তিনি যদি সামান্য নড়াচড়ার মাধ্যমে তা বন্ধ করতে পারেন, তাহলে তিনিই বন্ধ করবেন।
দারুল উলূম দেওবন্দের একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, নামাজ চলাকালে মোবাইল বেজে উঠলে ইমাম সাহেবের উচিত নয় নামাজের মধ্যেই মুসল্লিদের উদ্দেশ করে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া; বরং সংশ্লিষ্ট মুসল্লি নিজেই সম্ভব হলে সামান্য আমলের মাধ্যমে মোবাইল বন্ধ করবেন।
নামাজে মোবাইল বেজে ওঠা থেকে বাঁচার সহজ উপায়
বিষয়টি আসলে খুব সহজেই এড়ানো সম্ভব। মসজিদে প্রবেশের সময়ই—
মোবাইল সুইচ অফ করে দিন; অথবা
অন্তত সাইলেন্ট মোডে রাখুন;
রিংটোন হিসেবে গান বা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করবেন না;
নামাজের সময় মোবাইল হাতে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজ করবেন না;
সম্ভব হলে মোবাইল এমন পকেটে রাখুন, যেখান থেকে প্রয়োজন হলে সামান্য নড়াচড়ায় রিং বন্ধ করা যায়।
মুসল্লির সচেতনতার সামান্য একটি অভ্যাস অনেক মানুষের নামাজের একাগ্রতা রক্ষা করতে পারে।
মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর। এখানে এসে আমরা দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ তাআলার সামনে দাঁড়াই। একটি মোবাইলের রিংটোন কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা একই সঙ্গে নিজের এবং আশপাশের বহু মুসল্লির খুশু-খুজু নষ্ট করতে পারে।
তাই ‘নামাজ শুরু করার আগে মোবাইল সাইলেন্ট করা’ প্রত্যেক মুসল্লির সচেতনতার অংশ হওয়া উচিত। আর যদি ভুলে গিয়ে নামাজের মধ্যে মোবাইল বেজেই ওঠে, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অল্প নড়াচড়ায় এক হাত দিয়ে দ্রুত রিং বন্ধ করে দিতে হবে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে মোবাইল বের করে দেখা বা অতিরিক্ত নড়াচড়া করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নামাজের আদব রক্ষা করার এবং নামাজে পূর্ণ খুশু-খুজু অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
এসএইচ/