|| আবদুর রউফ আশরাফ ||
আমরা যারা সুস্থ থাকি, তখন কত কিছু নিয়ে অভিযোগ করি, অথচ সুস্থভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারাটাই যে কত বড় নেয়ামত, তা বুঝতে হলে একবার হাসপাতালের করিডোরে গেলে বোঝা যায় আমরা কত বড় নেয়ামতে ডুবে আছি।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা প্রতিটি মুখ যেন একেকটি গল্প। কারও চোখে অজানা ভয়, কারও চোখে বেঁচে থাকার আকুতি, কেউ কেউ ব্যথায় কাতর, আবার কেউ তাঁর রোগীর সুস্থতার আশায় নীরবে অপেক্ষা করছেন। চারপাশে কষ্ট, উৎকণ্ঠা আর অসহায়ত্ব চেপে ধরে, তবুও এর মাঝেই একজন মানুষের সামান্য সহানুভূতি আরেকজনের মনে এনে দিতে পারে গভীর প্রশান্তি।
একটু পাশে বসা, এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেওয়া, প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া কিংবা শুধু এই সান্ত্বনা দেওয়াটা কত বড়, “ভয় পাবেন না, আল্লাহ আছেন।”
কখনো কখনো এসব ছোট ছোট কাজই একজন অসুস্থ মানুষের জন্য হয়ে ওঠে বিরাট সান্ত্বনা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থদের খোঁজখবর নেওয়া ও তাদের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, সেবা করতেন, তিনি বলেছেন, “ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, অসুস্থের সেবা করো এবং বন্দীকে মুক্ত করো।”
অন্য এক হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বান্দাকে বলবেন, “হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসনি।”
বান্দা বলবে, “হে আমার রব! আপনি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আমি কীভাবে আপনাকে দেখতে আসবো?”
তখন আল্লাহ বলবেন, “তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল? তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে, তবে তার কাছেই আমাকে পেতে।”
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে আমরা কী গভীর শিক্ষা পাই!
অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি ঈমানি দায়িত্বও। একজন রোগীর কষ্ট একটু কমানো, তার মনে আশার আলো জ্বালানো, তার জন্য দোয়া করা—এসবই হতে পারে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।
তাই হাসপাতালের করিডোরে কষ্টে থাকা মানুষগুলোর দিকে একটু মমতার চোখে তাকাই। সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াই। হয়তো আমাদের সামান্য সহযোগিতাই কোনো অসহায় মানুষের জন্য হয়ে উঠবে দিনের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
মানুষের কষ্টের সময়ে পাশে দাঁড়ানো মানবিকতার পরিচয়, আর মুমিনের জন্য হতে পারে আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহৎ পথ।
লেখক: কো-অর্ডিনেটর, ইকরা বাংলাদেশ স্কুল, হবিগঞ্জ
আইও/