মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮


রামেকে ২৪ ঘণ্টায় ২৯ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি, মৃত্যু ১

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৭ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি ও সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নেওয়ায় রোগীর সংখ্যা কিছুটা ওঠানামা করছে। তবে এক দিনে ২৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাদের মধ্যে রাজশাহীর ৪৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩৭, নওগাঁ ও নাটোরে সাতজন করে, পাবনার পাঁচজন এবং অন্যান্য জেলার চারজন ছিলেন। অর্থাৎ রাজশাহীর পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে আসছেন।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল করিম (৪৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পোলাডাঙ্গা বটতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে আব্দুল করিমকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের নথিতে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সন্দেহজনক ডেঙ্গুজনিত হৃদ্‌পেশির প্রদাহের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা এবং পরবর্তী সময়ে আকস্মিক হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শামীম আহমেদ বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ২৫ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১০৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন, আবার অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। তবে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি। শুরুতেই রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কাজ চলছে। তবে এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি বাড়ি পরিষ্কার রাখলেও পাশের বাড়ি বা নির্মাণাধীন স্থানে পানি জমে থাকলে সেখান থেকেও এডিস মশা ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার, ড্রামসহ যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত স্থাপনাগুলোর দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।’

রিটন আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।’

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ