হাকীম মুহাম্মদ নুমান ত্বাহা কাসেমী
আলহামদুলিল্লাহ! দারুল উলুম একটি মহান দ্বীনি, ইলমি ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থী, আলেম, দর্শনার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের নিয়মিত আগমন ঘটে। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতি, নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান প্রয়োজন এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আন্তরিক শুভকামনার আলোকে কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করা হলো। প্রশাসন উপযুক্ত মনে করলে এগুলো বিবেচনা করতে পারেন।
১. দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট প্রবেশদ্বার
দর্শনার্থী, অতিথি এবং প্রতিষ্ঠানের বাইরের আগতদের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রবেশদ্বার নির্ধারণ করা হোক, যাতে প্রবেশ ও তদারকির ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হয়।
২. আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু
নির্ধারিত প্রবেশপথে রাডার, মেটাল ডিটেক্টর, হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানারসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করা হোক, যাতে কোনো নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক বস্তু ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।
৩. পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাই
প্রত্যেক আগত ব্যক্তির আগমনের উদ্দেশ্য জানা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্য বৈধ পরিচয়পত্রের তথ্য সংরক্ষণ, ছবি ও মোবাইল নম্বর রেকর্ড রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভিজিট পাস প্রদান করা হোক।
৪. ভিজিটিং কার্ড ও ডিজিটাল পাস ব্যবস্থা
অস্থায়ী প্রবেশের জন্য বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ভিজিটিং কার্ড চালু করা যেতে পারে, যাতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় উল্লেখ থাকবে এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে।
৫. নারী দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা
নারীদের সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে যে, তারা শরয়ি মাহরামসহ, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা জমা দিয়ে, নির্ধারিত সময়ে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারবেন। এতে শরিয়তের বিধান, পর্দা ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং নারী ভক্তরাও যুক্তিসঙ্গত সুবিধা পাবেন।
৬. মোবাইল ফোন জমা দেওয়ার নিয়মিত ব্যবস্থা
প্রবেশপথে মোবাইল ফোন জমা রাখার জন্য নিরাপদ কাউন্টার স্থাপন করা হোক। সেখানে যথাযথ রসিদ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে মোবাইল চার্জিংয়ের সুবিধাও রাখা যেতে পারে এবং সামান্য ফি নির্ধারণ করে এ ব্যবস্থাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা সম্ভব।
৭. নিরাপদ ক্লোকরুম স্থাপন
বড় ব্যাগ, স্যুটকেস, ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ অন্যান্য সামগ্রী রাখার জন্য নিরাপদ ক্লোকরুম প্রতিষ্ঠা করা হোক, যাতে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রতিষ্ঠানের ভেতরে না নেওয়া হয়।
৮. সিসিটিভি নজরদারি সম্প্রসারণ
সব প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, করিডোর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক মানের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হোক এবং এগুলোর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ গড়ে তোলা হোক।
৯. প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী
নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক, যাতে তারা সৌজন্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হন।
১০. জরুরি পরিস্থিতির পরিকল্পনা
আগুন লাগা, চিকিৎসা জরুরি অবস্থা বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সুস্পষ্ট জরুরি পরিকল্পনা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত।
১১. স্পর্শকাতর স্থানের বিশেষ নিরাপত্তা
দারুল হাদিস, গ্রন্থাগার, পাণ্ডুলিপি বিভাগ, অফিস, পরীক্ষা বিভাগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ রাখা এবং সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
১২. শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য নির্দেশনা
প্রবেশপথে সুস্পষ্ট নির্দেশনা টানিয়ে দেওয়া হোক, যেখানে মোবাইল ফোন ব্যবহার, ফটোগ্রাফি, অপ্রয়োজনীয় চলাচল এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য বিধিনিষেধ সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকবে, যাতে আগত সবাই আগে থেকেই নিয়মাবলি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
উপরের সব প্রস্তাবই কেবল প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, পবিত্রতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দারুল উলূমের মর্যাদা ও সুনাম আরও সুদৃঢ় করার আন্তরিক উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এই মহান দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের অনিষ্ট ও ফিতনা থেকে হেফাজত করুন, এর দায়িত্বশীলদের সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফিক দান করুন এবং এর ইলমি ও দ্বীনি কল্যাণধারা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রাখুন। আমিন।
[উর্দু গণমাধ্যম ইউএন নিউজ থেকে লেখাটি অনূদিত]
আরএইচ/