|| মাওলানা বুরহানুদ্দীন বিন সাদ ||
কোরবানি ইসলামের একটি পবিত্র বিধান। কোরআন-সুন্নাহে এবং সাহাবা-তাবেয়িন ও ফোকাহায়ে কেরামের বক্তব্যে এর সকল বিধি-বিধান সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে নিজ থেকে নতুন কোনো নিয়ম বা বিধান আবিষ্কারের সুযোগ নেই। কেউ নতুন কোনো নিয়ম চালু করলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে তা পরিত্যাজ্য ও ভুল বলে গণ্য হবে।
শরিকি কোরবানির ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে একটি ভুল প্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, কোরবানির পশুকে জবাইয়ের জন্য শোয়ানোর পর জবাই বিলম্বিত করে শরিকদের নামের তালিকা পাঠ করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি অপ্রয়োজনীয় কাজ। কারণ, কোরবানিদাতাগণ মনে মনে যে পশু কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, সেটিই যথেষ্ট। আলাদা করে শরিকদের নাম পাঠ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
(দ্রষ্টব্য: কিতাবুল আসল, ইমাম মুহাম্মদ ৫/৪০৬; শরহু মুখতাসারিল কারখি ৬/৩৮২; খিজানাতুল আকমাল ৩/৫১২; আলমুহিতুর রাজাবি ৬/৬২)
আর পশুকে শুইয়ে রেখে এভাবে নামের তালিকা পাঠ করার কারণে পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেয়া হয়। কোনো কোনো এলাকায় নামের তালিকা পড়তে গিয়ে জবাইয়ে যথেষ্ট বিলম্ব হয়, যা পশুর জন্য কষ্টদায়ক। অথচ হাদিস শরিফে জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কষ্ট দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
বিশিষ্ট সাহাবি হযরত শাদ্দাদ ইবনে আউস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন
«إِنَّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ، وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ، فَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ»
‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের ওপর ’ইহসান’ অত্যাবশ্যক করেছেন। অতএব তোমরা যখন (কিসাস ও হুদুদের ক্ষেত্রে কাউকে) হত্যা করবে, দয়ার্দ্রতার সঙ্গেই হত্যা করবে; আর যখন (পশু) যবাই করবে, দয়ার সঙ্গে যবাই করবে। তোমাদের প্রত্যেকে যেন (জবাইয়ের আগে) ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার যবাইকৃত জন্তুকে স্বস্তি দেয়।’- (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৫৫)
ফকিহগণ বলেছেন, জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া নিষিদ্ধ।
-(দ্রষ্টব্য: আল-মুজতাবা ৫/৩০; জামিউর রুমুজ ৩/৩৪৪; রদ্দুল মুহতার ৬/২৯৬; তাকমিলা ফাতহিল মুলহিম ৩/৩০৩)
লেখক: উস্তাযুল হাদিস ওয়াল ফিকহ, জামিয়া দারুল ঈমান, (বেগম মসজিদ কমপ্লেক্স) নতুন বাজার, সদর চাঁদপুর।
ফিকহ ও ইফতা, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা।
জেডএম/
