রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ।। ১ চৈত্র ১৪৩২ ।। ২৬ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ইরানের বার্তা ইসরায়েলের-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাল ইরান আগামীকাল উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জা আব্বাসকে নেওয়া হবে সিঙ্গাপুর মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবার হাদির খুনিদের পালাতে সহায়তাকারীকে গ্রেপ্তার করল ভারত ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা চালু করল বিএসসিএল ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই: ডিসি আমিনুল এত ক্যাডেট ও ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা লইয়া আমরা কী করিব? ভারত মহাসাগরে যুদ্ধজাহাজে হামলার জবাব দেওয়া হবে: ইরানি সেনাপ্রধান ‘ঈদযাত্রা সহজ করতে পরিবহন সিন্ডিকেট কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন’

নাজাতের প্রহরে কিছু অনুভব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুহাম্মাদ শামসুদ্দোহা কাসেমী ||

রমজানের গাড়ি দেখতে দেখতে যেন চব্বিশ নম্বর প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করল। প্রতিদিন সে কিছু না কিছু বিতরণ করে চলেছে। প্রথমে বিতরণ করেছে রহমত। তারপর দিয়েছে মাগফিরাত। আর এখন দিচ্ছে নাজাতের পরোয়ানা—মুক্তির সনদ। সেই সাথে দিয়ে চলেছে লাইলাতুল কদরের অপার বরকত।

সে যেন বিশ্ববাসীকে বলে চলেছে— ‘আর মাত্র কয়েক দিন আমি তোমাদের এই গ্রহে অবস্থান করব। তারপর জান্নাতে ফিরে যাব। যারা জান্নাতে যেতে চাও, তারা খুব তাড়াতাড়ি আমার কাছ থেকে মুক্তির সনদ সংগ্রহ করে নাও। কুরআন মাজীদকে আঁকড়ে ধরো। এর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করো। রাতের নীরবতায় অশ্রু বিসর্জন দাও, যাতে অতীতের গুনাহ ধুয়ে যায়। আর খেয়াল রাখবে—ভবিষ্যতে যেন আর কোন গুনাহ না হয়।’

‘সেজন্য সর্বদা যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হলো তাকওয়া—এই অনুভূতি যে মহান আল্লাহ তা'আলা তোমাকে সবসময় দেখছেন। একদিন তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। জীবনের পাই-পাই হিসাব দিতে হবে। হিসাব মিলে গেলে তিনি পুরস্কার দেবেন—জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যমে। আর হিসাবে গড়বড় হলে তিনি তিরস্কার দেবেন—জাহান্নামে প্রবেশের মাধ্যমে।’

‘সেই সাথে মনে রাখবে আত্মসংযমের কথা—যাকে বলে আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা। জীবনগাড়িকে কখনো বল্গাহীনভাবে ছেড়ে দেবে না। সর্বদা খেয়াল রাখবে এর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা যেন শয়তান ও নফসের হাতে কোনভাবে চলে না যায়। যদি তা হয়ে যায়, তাহলে তোমার জীবনগাড়ি সিরাতে মুস্তাকীম থেকে সরে বিপথগামী হয়ে পড়বে এবং লক্ষ্যহারা হয়ে জাহান্নামের দিকে ধাবিত হবে।’

‘আর ধৈর্যকে তোমাদের সঙ্গী বানিয়ে নেবে। তাহলেই দেখবে জীবনগাড়ি কত নিরাপদে গন্তব্যস্থল—জান্নাতে পৌঁছে যায়।’

‘পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতিও খেয়াল রাখবে। তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবে। তোমার উপার্জনের কিছু অংশ অভাবগ্রস্তদের দেবে। ঈদের আনন্দ সবাই মিলে ভাগ করে নেবে। তাহলেই তোমরা সুস্থ থাকবে—মৃত্যুর আগে ও পরে।’

‘আর সবশেষে মনে রাখবে—তোমার জীবন হবে ইতিকাফ-কেন্দ্রিক। মনটা সর্বদা মসজিদের সাথে যুক্ত থাকবে—আল্লাহর ঘরের সাথে। আল্লাহর হক যেন কোনভাবেই নষ্ট না হয়। আর যতক্ষণ মসজিদের বাইরে থাকবে, ততক্ষণ বান্দার হক আদায় করবে।’

‘এই কাজগুলো যদি ঠিকমতো করতে পারো, তাহলে তুমি মুক্তির সনদ লাভ করবে। জাহান্নাম থেকে চিরদিনের জন্য নাজাত পাবে। আর তোমার জীবনগাড়ি নিরাপদে পৌঁছে যাবে জীবনের শেষ ডেস্টিনেশন—জান্নাতে। সেখানে ফিরে যাবে নিজের চিরস্থায়ী ঘরে; যেখানে আর কোন কষ্ট থাকবে না—না ক্ষুধার কষ্ট, না অভাবের কষ্ট, না মৃত্যুর কষ্ট, না বার্ধক্যের কষ্ট।’

‘আমার কথাগুলো যদি মনোযোগ দিয়ে না শোনো, তাহলে কিন্তু সারা জীবন পস্তাতে হবে। কাঁদতে হবে। তখন কিন্তু তোমার কান্না কেউ শুনবে না। তাই মনে রাখবে—আমার মতো আপন বন্ধু তুমি আর কাউকে পাবে না। আমি একটি মাসের জন্য তোমাদের কাছে এসেছি—এই কথাগুলো বলার জন্য।’

রমযান যেন আমাদের জীবনগাড়িকে নতুন করে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে যায়। হৃদয়ের অন্ধকার দূর করে ঈমানের আলো জ্বালিয়ে দেয়। এই বরকতময় মাসের শিক্ষা যদি আমরা সারা বছরের জীবনে ধরে রাখতে পারি, তাহলেই রমযানের প্রকৃত প্রাপ্তি অর্জিত হবে।

মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকলকে রমযানের রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পূর্ণ অংশীদার বানিয়ে দিন এবং আমাদের জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক: মাদরাসা শিক্ষক ও আলেম লেখক, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

আইএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ