বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ।। ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ২২ রমজান ১৪৪৭


মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিতে চান্স পেলেন তিন বাংলাদেশি কওমি তরুণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

সম্প্রতি বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কওমি ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসা তিনজন মেধাবী বাংলাদেশি তরুণ পিএইচডি প্রোগ্রামে চান্স পেয়েছেন। ইউনিভার্সিটির Deanship of Postgraduate Studies (স্নাতকোত্তর শিক্ষা অনুষদ) কর্তৃক অনুষ্ঠিত এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের এডমিশন টেস্টের ফাইনাল রেজাল্ট গত রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশ করা হয়।

জানা যায়, আব্দুর রহমান আবু তালেব Faculty of Business (অর্থনীতি অনুষদ) থেকে ‘ইসলামি অর্থনীতি’ বিভাগে পিএইচডিতে চান্স পেয়েছেন। তার বাড়ি ঢাকার মোহাম্মদপুরে। তিনি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষায় ডিপ্লোমা শেষে ‘শরিয়াহ অনুষদ’ থেকে অনার্স শেষ করেন। অতঃপর ‘ইসলামি অর্থনীতি’তে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ড. ফাহাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবিদের তত্ত্বাবধানে ’বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের প্রভাব’ শিরোনামে এমফিল সম্পন্ন করেন।

মদিনায় আসার আগে তিনি জামিয়া রাহমানিয়া সাত মসজিদ মাদরাসা থেকে হিফজুল কোরআন ও দাওরা হাদিস এবং মিরপুর জামিয়া মুহাম্মদিয়া থেকে ইফতা সমাপ্ত করেন। অন্যদিকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৫ (A+) অর্জন করেন।

দ্বিতীয়জন হচ্ছেন মুহাম্মদ মুশাহিদ দেওয়ান। তিনি Faculty of Arabic Language (আরবি ভাষা অনুষদ) থেকে ভাষাতত্ত্ব (Linguistics) বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রামে চান্স পেয়েছেন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। তিনি আরবি ভাষা অনুষদ থেকে পর্যায়ক্রমে অনার্স মাস্টার্স ও এমফিল সম্পন্ন করেছেন। ড. ইবরাহিম বিন সালিহ আল আওফির তত্ত্বাবধানে ইমাম ইয়াকুত আল হামাওয়ী (মৃত ৬২৬ হি.) এর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মু’জামুল উদাবা’ গ্রন্থে খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কিত শব্দসমূহের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণধর্মী গবেষণা ছিল তার বিষয়বস্তু। এছাড়া তিনি ভার্সিটিতে একই অনুষদের অধীনে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রসঙ্গত, তিনি মদিনায় আসার আগে ঢাকার মাদানীনগর মাদরাসা থেকে দাওরা হাদিস সম্পন্ন করেন এবং বেফাক বোর্ডের অধীনে তৎকালীন তাকমিল পরীক্ষায় সারা দেশে মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করেন। অন্যদিকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৫ (A+) অর্জন করেন।

তৃতীয়জন হচ্ছেন, ফাহাদ মৃধা। তিনি Faculty of Hadith (হাদিস অনুষদ) থেকে ‘ফিকহুস সুন্নাহ’ বিভাগে পিএইচডিতে চান্স পেয়েছেন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায়। মদিনা ইউনিভার্সিটিতে তিনি আরবি ভাষায় ডিপ্লোমা শেষ করে ‘হাদিস অনুষদ’ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেন। এরপর ‘ফিকহুস সুন্নাহ’ বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ড. সালেহ বিন আব্দুল্লাহ আসিরীর তত্ত্বাবধানে ‘এমফিল গবেষণাপত্র’ জমা দিয়েছেন। শিগগির তার থিথিস পেপারের ডিফেন্স অনুষ্ঠিত হবে।

মদিনায় আসার আগে তিনি আড়াইহাজার থানার অন্তর্গত দারুল উলুম দিঘলদী মাদরাসা থেকে হিফজুল কোরআন এবং ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসা থেকে মিশকাত জামাত পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। অন্যদিকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৫ (A+) অর্জন করেন।

জানা যায়, তারা তিনজনই ২০১৬ সালে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্কলারশিপ পেয়ে মদিনা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। পবিত্র মদিনা মুনাওয়ারাহর মাটিতে এই একাডেমিক অর্জনে তারা মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং দেশবাসীর দোয়া প্রত্যাশা করেন। ভবিষ্যতে তারা দেশ-জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করে শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রেখে যেতে চান।

উল্লেখ্য, মদিনা ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন বিভাগে বর্তমানে আরও পাঁচজন কওমি তরুণ পিএইচডি প্রোগ্রামে গবেষণারত আছেন। তারা হলেন যথাক্রমে: মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন (ইতিহাস বিভাগ), হাফেজ শরীফ আহমদ (হাদিস বিভাগ), এরশাদুর রহমান (আরবি ভাষা বিভাগ), আবদুল হক (আরবি ভাষা বিভাগ) ও সিফাতুল্লাহ (কুরআন বিভাগ)।

আইএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ