টেকনাফ প্রতিনিধি
ছোটবেলা থেকেই দ্বীনি শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ আব্দুল্লাহ সাঈদের। নিজের আগ্রহ বজায় রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে সফলতার পথে। তার প্রতিটি সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের ত্যাগ, শিক্ষকদের দোয়া এবং নিজের নিরলস পরিশ্রম।
তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টেকনাফের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লেদা ইবনে আব্বাস (রা.) আল ইসলামিয়া মাদরাসা থেকে। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান থেকে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে শেষ হয় তার জীবনের প্রথম অধ্যায়।
পরবর্তীতে একে একে মাদরাসার বিভিন্ন বিভাগের অধ্যয়ন। এখানেও নিরলস পরিশ্রমে ছিনিয়ে আনে নানা সফলতা। মুতাফাররিকাহ, নাহুম, হাস্তুম ও হাপ্তুম জামাতগুলোতে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে সফলতার ছাপ রাখে এই উদীয়মান তরুণ। এর আগেও আঞ্চলিক শিক্ষাবোর্ড রাবিতাতুল মাদারিস আল ইসলামিয়া কক্সবাজার এর অধীনে পরিচালিত শিক্ষা বোর্ডের জামাতে নাহুম,হাপ্তুম জামাতে একই সাফল্য অর্জন করে সে।
সর্বশেষ চলতি বছরে চট্টগ্রামের সুপরিচিত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া মাদানিয়া শুলকবহর থেকে জামাতে শশুমে অংশগ্রহণ করে সর্বোচ্চ মেধা তালিকায় ১১ তম স্থান অর্জন করে।
এ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ সাঈদ বলেন, এই সাফল্য শুধু আমার একার নয়। বাবার স্নেহময় শাসন, ত্যাগ ও দোয়া এবং সম্মানিত উস্তাদদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার ফলেই আমি আজ এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছি। ছোটবেলা থেকেই বাবা আমাকে দ্বীনি শিক্ষায় এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং প্রতিটি ধাপে পাশে থেকে সাহস যুগিয়েছেন।
শিক্ষকরা জানান, নিয়মিত অধ্যয়ন, শৃঙ্খলা এবং দ্বীনের প্রতি ভালোবাসার কারণেই সে অল্প বয়সেই এমন ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও দ্বীনি শিক্ষায় আরও উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আব্দুল্লাহ সাঈদ।
আব্দুল্লাহ সাঈদের এই সাফলতা প্রমাণ করে—পরিবারের সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষকদের দোয়া এবং নিজের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে একজন শিক্ষার্থীর খুব অল্প সময়েই উজ্জ্বল সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব। ভবিষ্যতেও সে যেন দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সমাজ ও দেশের জন্য কল্যাণকর ভূমিকা রাখতে পারেন এটাই সবার প্রত্যাশা।
আইএইচ/