সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ ।। ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২২ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে শঙ্কা সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করা সাংবাদিকেরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়: সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণের কারণে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে না: ইরান ৩০টি নোটিশ দিয়েছি, কোনটার ওপর বলব জানি না: সংসদে আমির হামজা বিদ্যুৎ ও তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নয়, দুর্নীতি বন্ধ করুন: বিকেএম মমতার কেন এই বিপর্যয়, বিজেপির কেন এই উত্থান? এবার ২ লাখ ফলদ চারা রোপণ করবে আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চায় নেজামে ইসলাম পার্টি পলাশবাড়ীর ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে জনমনের উদ্বেগ দূর করুন: হেফাজত নতুন চেয়ারম্যান পেল মাদরাসা বোর্ড

সুন্দর জীবন-মৃত্যু লাভে যে আমল করবেন


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
প্রতীকি ছবি

আল্লাহ তাআলা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আসমান ও জমিনের জ্ঞান দেওয়ার পর দুটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একটি দোয়া পড়ার নির্দেশনা দেন। বিষয় দুটি ইবাদত ও আমল সম্পর্কিত।

‘কাফফারাত ও দারাজাত’ ইবাদাতের দুইটি বিশেষ পরিভাষা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুইটি ইবাদত সম্পর্কেই উম্মতে মুহাম্মাদিকে জানিয়েছেন। এই ইবাদত ও দোয়ায় সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও দোয়া সম্পর্কে হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবদুর রহমান ইবনু আয়িশ ইবনু আব্বাস ও মুয়াজ ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন- হে মুহাম্মাদ! আপনি কি জানেন ‘মালা-উল আলা’ কী বিষয়ে তর্ক করছে?

নবীজি বললেন, ‘হ্যাঁ’, আমি জানি! ‘কাফফারাত’ নিয়ে বিতর্ক করছে।

‘কাফফারাত’ হলো-

১. মসজিদে নামাজের পর আরেক নামাজের ওয়াক্ত আসা পর্যন্ত অপেক্ষা বা জিকির-আজকার করার জন্য বসে থাকা।

২. জামাতে নামাজ আদায় করার জন্য পায়ে হেঁটে (মসজিদে) চলে যাওয়া।

৩. কঠিন সময়ে (অসুস্থাবস্থায় বা প্রচণ্ড শীতের সময়) অজুর স্থানে (অঙ্গসমূহে) ভালোভাবে পানি পৌঁছানো।

যারা এভাবে উল্লিখিত আমলগুলো করলো; তারা কল্যাণের উপর বেঁচে থাকবে, কল্যাণের উপর মৃত্যুবরণ করবে। আর তার গুনাহসমূহ থেকে এমনভাবে পূত-পবিত্র হয়ে যাবে, যেন আজই তার মা তাকে প্রসব করেছে।

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! নামাজ আদায় করার পর এ দোয়া পড়ে নেবেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ بِعِبَادِكَ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ফি’লাল খায়রাতি ওয়া তারকাল মুনকারাতি ওয়া হুববাল মাসাকিনি ওয়া ইজা আরাদতা বি-ইবাদিকা ফিতনাতান ফাক্ববিদ্বনি ইলাইকা গাইরা মাফতুন।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভালো কাজ করার তাওফিক চাই। খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার শক্তি চাই। গরিব-মিসমিনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপনের সুযোগ চাই। আর যখন তুমি বান্দাদের মধ্যে পথভ্রষ্টতার এবং ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করার ইচ্ছা করবে তখন আমাকে ফেতনামুক্ত রেখেই তোমার কাছে উঠিয়ে নেবে।’

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বললেন, ‘দারাজাত’। ‘

দারাজাত’ হলো-

১. সালামের প্রসার করা,

২. গরিবকে খাবার দেওয়া,

৩. রাতে মানুষ যখন ঘুমে থাকে তখন নামাজ আদায় করা।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

হাদিসের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাফফারাত ও দারাজাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও আমল। উল্লেখিত আমল-ইবাদতের পর আল্লাহ তাআলা উল্লেখিত দোয়াটি পড়তে বলেছেন।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘কাফফারাত ও দারাজাত’ নির্দেশিত আমল-ইবাদত করা এবং উল্লেখিত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কাফফারাত ও দারাজাতের আমলের পাশাপাশি জীবনঘনিষ্ঠ দোয়াটি পড়ার মাধ্যমে তার সাহায্য পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এনএ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ