রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ২ রবিউস সানি ১৪৪৮


ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত ১০

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার চালানো ভয়াবহ এই হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হামলায় দেশজুড়ে আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে গত দুই মাসে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কারণ রাশিয়া এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন দূরবর্তী অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনা ও গুদামে হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শনিবার ভোর থেকে রাশিয়া প্রায় ৫০০টি ড্রোন ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহার করেছে।

তিনি বলেন, “মূলত রাশিয়া যুদ্ধকে সামনের ফ্রন্টলাইন থেকে সরিয়ে অর্থনীতির দিকে নিয়ে গেছে, যেখানে তারা কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। তাদের কৌশল অত্যন্ত সরল—যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মানুষের টিকে থাকার জন্য যেসব স্থাপনা সহায়তা করতে পারে, সেগুলো ধ্বংস করা।”

জেলেনস্কি আরও বলেন, “রাশিয়া ইউক্রেনের অর্থনীতি ধ্বংস করতে এবং আমাদের প্রতিরোধ ভেঙে দিতে চায়।”

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘কেল্লা শহর’ খ্যাত কোরামাতোরস্ক শহর কাউন্সিল জানিয়েছে, রুশ বাহিনী বেসরকারি গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এতে তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে হামলাগুলো ঘটে।

কাউন্সিল বলেছে, ‘এগুলো কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়। এগুলো সাধারণ বেসামরিক গাড়ি। মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজে যাচ্ছিল।’

কিভের পশ্চিমে ইউক্রেনের ঝিতোমির অঞ্চলের গভর্নর ভিটালি বুনেচকো জানিয়েছেন, জভ্যাহেল শহরে একটি মুদি দোকানে রাশিয়ান হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। বুনেচকো জানান, দুটি পেট্রল পাম্পের পাশাপাশি একটি অজ্ঞাত ‘বিদেশি বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠান’ও হামলার শিকার হয়েছে।

ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তবর্তী দেশ মোলদোভা সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন সনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় এবং সাতটি সীমান্ত ক্রসিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। নিয়মিত ইউক্রেনে হামলার সময় রাশিয়ান ড্রোন মোলদোভার আকাশসীমায় প্রবেশ করায় অঞ্চলটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

সূত্র: রয়টার্স

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ