বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ ।। ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৮ জিলহজ ১৪৪৭


ভারতের উত্তরাখণ্ডে মসজিদ সিলগালা, উত্তেজনা বৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের ডেরাডুন জেলার থানো এলাকার একটি জামে মসজিদ সিলগালা করেছে মুসৌরি-ডেরাডুন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমডিডিএ)। গত ১ জুন গৃহীত এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদটিতে অনুমোদনবিহীন নির্মাণকাজের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। বিশেষ করে কালী সেনার রাজ্য সমন্বয়ক ভূপেশ জোশি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, মন্দিরের নিকটে মসজিদের অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়। তিনি মসজিদটিকে ‘অবৈধ দখল’ আখ্যা দিয়ে ১ জুনের মধ্যে তা খালি করার আল্টিমেটামও দেন।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের দায়ের করা একটি আবেদন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, আইনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রেহাই দেওয়া যায় না। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিয়ম অনুযায়ী কম্পাউন্ডিংয়ের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে বাজরং দল ও কালী সেনাসহ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন দাবি করেছে, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অংশ হিসেবেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বলে দাবি তাদের।

তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেছেন, আদালতের নির্দেশনা ও প্রশাসনিক নোটিশ কেবল ২০২৩ সালে নির্মিত একটি নির্দিষ্ট কক্ষকে কেন্দ্র করে ছিল। কিন্তু বাস্তবে পুরো মসজিদ কমপ্লেক্স সিলগালা করা হয়েছে, ফলে মুসল্লিরা নামাজ আদায়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা আরও দাবি করেন, তাদের বক্তব্য উপস্থাপন বা আইনগতভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি।

মসজিদ সিলগালার পর কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা সেখানে হোমযজ্ঞ (হবন) আয়োজন করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাখণ্ড ও উত্তর প্রদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে হিন্দু সংগঠনগুলো অবৈধ নির্মাণবিরোধী অভিযানের কথা বলছে, অন্যদিকে মুসলিম নেতারা প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক চাপের অভিযোগ তুলছেন।

এ ঘটনায় থানো এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিষয়টি আইনানুগ ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সূত্র: মুসলিম মিরর

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ