নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রে কেবল ব্যক্তির পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের কাঠামো ও নীতিগত সংস্কার হয়নি। ফলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের সার্বিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছে জনগণের যা চাওয়া, তার কোনো মাত্রাতেই স্বস্তিজনক খবর নেই। দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালের বাইরে, জ্বালানি খাতে দফায় দফায় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, জননিরাপত্তায়ও তেমন কোনো উন্নতি নেই। বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভয়াবহ।’
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিয়মিত বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সরকারের ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এর অন্যতম কারণ রাষ্ট্রের কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন না আসা এবং নীতিগত সংস্কার না হওয়া।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে কেবলই ব্যক্তির পরিবর্তন হয়েছে। রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তন হয়নি। সংস্কার সাধন না হলে আগামী পাঁচ বছরেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে না। তাই জনপ্রত্যাশা পূরণে সংস্কার করতেই হবে।’
রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে সাধারণ ভোটের আনুপাতিক হারের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের দাবি জানান ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে জনদুর্ভোগ এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি গ্যাস ও জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, আতিকুর রহমান মুজাহিদ, মাওলানা মানসুর আহমদ সাকী, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, অধ্যাপক নাসির উদ্দিন, আলহাজ আবু তাহের, মুফতি শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, কে এম শরীয়াতুল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফ।
আইও/