নিজস্ব প্রতিবেদক
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, ইসলামপন্থী ও সৎ-যোগ্য মানুষরা নিষ্ক্রিয় থাকলে স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতিবাজ, অসৎ ও কমিশননির্ভর ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আমিরে মজলিসের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই কমিটি’র সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে আসতে হবে। ইসলামপন্থীরা নীরব থাকলে এবং সৎ ও যোগ্য মানুষ নির্বাচনে অংশ না নিলে অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অর্থশক্তি ও প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য কমাতে নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে অনেক সময় প্রকৃত জনদরদি, সৎ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় যথাযথভাবে উঠে আসার সুযোগ পান না। এটি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল।
তবে শুধু নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না উল্লেখ করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, রাজনৈতিক দল ও ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। তাই প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তৃণমূল থেকেই সাংগঠনিকভাবে কাজ করতে হবে।
মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা যদি নীরবে বসে থাকি, একজন সৎ মানুষ যদি এগিয়ে না আসেন, তাহলে একজন কমিশনখোর চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ পাবে। একজন সৎ মানুষ যদি এগিয়ে না আসেন, তাহলে একজন দুর্নীতিবাজ পৌর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। একজন চাঁদাবাজ সিটি মেয়র হওয়ার সুযোগ পাবে। তাই জনগণের কল্যাণ ও দেশের স্বার্থে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপকভাবে যোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব মাওলানা হাসান জুনাইদের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন হোসেন মিয়াজী ও মাওলানা মুফতি শরাফত হোসেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা আবুল হাসনাত জালালী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা মহসিনুল হাসান, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ হাদী, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বাইতুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশিদ, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিনসহ নির্বাচন পরিচালনা ও প্রার্থী বাছাই কমিটির সদস্যরা।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ও খেলাফত ছাত্র মজলিসের নেতারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
আইও/