সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

সাদা সোনায় কালো থাবা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মিনহাজ উদ্দীন আত্তার ||

বাঁশখালীসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলে এবার লবণের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। হাজার হাজার চাষি দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে “সাদা সোনা” ফলিয়েছেন। কিন্তু তাদের চোখে হাসি নেই, বরং জল।

উৎপাদন খরচ প্রতি মণ ৩৫০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৪০-২৫০ টাকায়। প্রতি মণে ১০০-১৭০ টাকা লোকসান গুনছেন চাষিরা। মাঠ পর্যায়ে কেজি প্রতি ৫ টাকার নিচে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, অথচ শহরে প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে।

এটা কোনো সাধারণ বাজার সমস্যা নয় — এটা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সুপরিকল্পিত লুটপাট। মধ্যস্বত্বভোগী, কার্গো বোট মালিক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের চক্র পুরো সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণ করছে। চাষিরা স্বাধীনভাবে তাদের উৎপাদিত লবণ বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে উৎপাদক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, আর মধ্যস্বত্বভোগীরা রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও দুর্যোগে হাজার হাজার টন লবণ নষ্ট হয়েছে। উৎপাদন খরচ আরও বেড়েছে। জমির ভাড়া, পলিথিন, জ্বালানি—সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। তারপরও চাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। এভাবে চলতে থাকলে দেশের ঐতিহ্যবাহী লবণ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে এবং হাজার হাজার পরিবার পথে বসবে।

আমাদের কঠোর দাবি:

সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু করতে হবে।

আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে চাষিদের মজুতের সুবিধা দিতে হবে।

বিনা সুদে ঋণ, ভর্তুকি মূল্যে পলিথিন ও সেচ যন্ত্রপাতি প্রদান করতে হবে।

উপকূলীয় লবণ শিল্প রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

লবণ চাষিরা কোনো দয়া বা অনুদান চান না। তারা চান তাদের হাড়ভাঙা শ্রমের ন্যায্য মূল্য। হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করে যারা দেশকে লবণে স্বয়ংসম্পূর্ণ রেখেছেন, তাদের সিন্ডিকেটের হাতে ঠেলে দেওয়া রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

লবণ চাষি বাঁচলে উপকূল বাঁচবে। সরকার ও প্রশাসন—এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিন।

লেখক: কৃষি উদ্যোক্তা ও প্রশিক্ষক

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ