সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

শ্রমিকরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মাওলানা মামুনুল হক || 

শ্রমিকরা জাতির অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তাদের ঘাম ও পরিশ্রমের উপরই দাঁড়িয়ে আছে রাষ্ট্রের শিল্প, কৃষি, নির্মাণ ও উৎপাদন ব্যবস্থা। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাতসমূহ—পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয়, কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক আজও ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টার সুষ্ঠু নির্ধারণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

ইসলাম একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেয়, যেখানে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অপরিহার্য দায়িত্ব। মহানবী (সা.) শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামের এই নীতির আলোকে শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শোষণমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং মালিক-শ্রমিকের পারস্পরিক ন্যায়ভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

বর্তমান বাস্তবতায় আমরা দেখতে পাই—অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনাও আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ অবস্থা কোনোভাবেই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আমরা সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই—ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রম আইন কার্যকর করা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একইসাথে মালিকপক্ষকে শ্রমিকদের প্রতি মানবিক, ন্যায়সঙ্গত ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

একইসাথে আমরা শ্রমিকদেরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্বার্থবাদী ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতিকে দৃঢ়ভাবে নাকচ করি। শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি। আমরা চাই—শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে টেকসই সমাধান নিশ্চিত হোক, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক; কিন্তু তাদেরকে কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হোক।

লেখক: আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ