মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
শরীফ ওসমান হাদি। শুধু একটি নাম নয়। একটি জাগরণ। একটি জেগে ওঠার গল্প। গোবরের উপরে সঠান দাঁড়ানো একটি প্রস্ফুটিত গোলাপ।
এমন হাদিরা বাঁচে না। বাঁচতে দেওয়া হয় না।
হাদিদের শত্রু এক নয়, অনেক। একমুখী নয়, নানামুখী।
হাদি যদি শুধু ইনসাফের কথা বলতো, শুধুই গণতন্ত্রের কথা বলতো, হয়তোবা তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হতো না।
হাদি হাত দিয়েছিল আরও অনেক গভীরে।
দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে তিলে তিলে শিকড় গেঁড়ে বসা এক ভয়ানক মাফিয়ার প্রাসাদে।
দুর্ভেদ্য সে প্রাচীর শুধু ক্ষতিগ্রস্তই নয় সমূলে উপড়ে ফেলার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল শরীফ ওসমান হাদি।
সেই মাফিয়া চক্রের দুর্ভেদ্য প্রাসাদের নাম ‘ইসলামফোবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা'।
এই মাফিয়া চক্রের সদস্য বহুবিধ। কেউ ভারতপন্থী, কেউ চীন রাশিয়াপন্থী, কেউবা আমেরিকাপন্থী। এই সদস্যরা পারস্পরিক মতভিন্নতা থাকলেও এক বিষয়ে সংঘবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধ। সেটি হলো নিরেট ইসলাম ও মুসলমানদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ও প্রতিষ্ঠিত হতে না দেওয়া।
কওমিপন্থী ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো নিরেট ইসলামকে ক্ষমতায় নেবার সংগ্রামে লিপ্ত হলেও বাস্তবতা হলো, তারা এখনো গণমানুষের কণ্ঠ হয়ে উঠতে পারেনি।
এ দলগুলো ইদানীং সেই দুর্বলতা কাটিয়ে নিজের মেরুদণ্ড সোজা করার সংগ্রামে লিপ্ত।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সম্মিলিতভাবে দাবিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও দৃঢ়পদে সামনে এগোচ্ছে।
ইতিহাসের বাঁক বদলের এমনি টার্নিং পয়েন্টে শরীফ ওসমান হাদি হয়ে উঠেছিল ইসলাম ও দেশপ্রেমিক জনতার এক নতুন জাগরণের উত্তাল জলোচ্ছ্বাস।
যে ঝড়ে ভেসে যাওয়ার শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিল মাফিয়াচক্রের প্রতিটি সদস্য।
শরীফ ওসমান হাদি ছিল সেই যুবক। সেই সাহসী কণ্ঠ। যিনি দৃঢ় পদে দেশ ও ইসলাম দুটিকে সমান্তরালে উপস্থাপন করতেন। নিজেকে মুসলিম ও প্র্যাকটিসিং মুসলিম পরিচয়ে কখনো কুণ্ঠাবোধ করতেন না। আওয়াজ তুলেছিলেন কালচারাল ফ্যাসিজম এর বিরুদ্ধে।
এটি শুধুই একটি আওয়াজ নয়, এ যেন মাফিয়া চক্রের প্রাসাদে আঘাত হানা এটমবোম।
রবীন্দ্র গীতির লুতুপুতু সঙ্গীতের কর্ণ স্তব্ধ করে দেওয়া বিদ্রোহী, বিপ্লবী নজরুলের হুংকার।
তাই হাদিকে সরিয়ে দেওয়া মানে একটি জাগরণের উন্মুখ স্ফুলিঙ্গকে নিভিয়ে দেওয়া।
এতে লাভ শুধু একটা নির্দিষ্ট গ্রুপের নয়। একটি দলের নয়, অনেক দলের। ভারত, চায়না, রাশিয়া কিংবা আমেরিকাপন্থী, এমনকি ডানপন্থী নামে গঠিত লিবারেল দলগুলোও অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেল।
হাদি ছিল এসব মুখোশধারীর জন্য এক মূর্তমান আতঙ্ক।
তাই তার শাহাদতে মুখ রক্ষার শোক জানালেও বাস্তবে কেউ কিছুই করবে না।
এভাবেই হাদিরা হারিয়ে যায়, হারিয়ে যেতে দেওয়া হয়।
হাদিকে আমাদেরকেই জীবিত রাখতে হবে।
হাদির বক্তব্যগুলো সংকলিত করে বই বের করা যেতে পারে।
তার বক্তব্যের ভিডিওগুলো নিয়ে আলাদা আর্কাইভ তৈরি করা যেতে পারে।
আমরা কাল কালান্তরে হাদিকে, হাদির মিশনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়ে আমরা তাকে জীবিত রাখতে পারি।
আল্লাহ তাআলা শরীফ ওসমান হাদিকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন। আমিন।
লেখক: পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা