শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
তিব্বতে নতুন করে বাঁধে ভাঙ্গন, উদ্ধার অভিযান স্থগিত করল নেপাল ও চীন চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু আইনজীবীদের পেশাগত মান নিয়ে সংশয় রয়েছে: আইনমন্ত্রী দাড়ি নবীর সুন্নত, কটাক্ষ করার এখতিয়ার কারও নেই: সংসদে মনিরুল হক চৌধুরী নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে পাঠানোর’ হুঁশিয়ারি ইরানের মেজর জেনারেলের ২৮ আগস্ট ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কত? তানযীমুল আইম্মাহ ওয়াল উলামার উদ্যোগে দুই পর্বে সিরাত প্রতিযোগিতা নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ১৪৬৮ আমিরে মজলিসের তত্ত্বাবধানে ৫০ হুইলচেয়ার ও ৫০ ভ্যান বিতরণ কুমিল্লায় খেলাফত মজলিসের উলামা ও সুধী সমাবেশ

ভোট কাকে দেবো?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

||মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী||

গণভোটের প্যাকেজ প্রশ্নের ভালো মন্দ ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমার চিন্তা ভাবনা-

১. হ্যাঁ ভোটের প্রস্তাবনায় কিছু বিষয় সুশাসন ও বিচারের জন্য ভালো আছে। কিছু বিষয় রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকরও আছে। কিছু বিষয় আছে ইসলামের দৃষ্টিতে খুব খারাপ। একটি প্যাকেজ প্রশ্নের জবাবে নির্দ্বিধায় হ্যাঁ বলার উপায় নেই। কেননা, এখানে আমাদের ঈমান ইসলাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কোনো বিষয় বা জুলাই বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কোনো স্বীকৃতি নেই। ১৫ কোটি মুসলমানের সংবিধানে ঈমানি কোনো বিষয় রাখার প্রস্তাব নেই। একবারও আল্লাহ ও রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শব্দটির ব্যবহার নাই। বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম, ইসলামি মূল্যবোধ, কোরআন, সুন্নাহ শব্দটিও নাই। নিছক দুনিয়াদারির, বহুত্ববাদী, রেইনবো সোসাইটিবান্ধব এবং সেকুলার চরিত্রে তৈরি কিছু প্রস্তাবনা পাসের জন্য হ্যাঁ ভোট দিলে কী লাভ হবে?

২. এবারের নির্বাচন যেহেতু ইসলামবিরোধী শক্তির হাত থেকে দেশ ও জাতি রক্ষার ইস্যু নয়, দলীয় বয়ানে যে যাই বলুন না কেন, কাগজপত্র ও দলিল অনুযায়ী প্রায় একই ধরনের সংবিধান নীতি আদর্শ রীতি পদ্ধতি  মেনে ৩০০ প্রার্থী পাস করবেন, অতএব এ নির্বাচনে ভোট দেওয়া না দেওয়ার মধ্যেও বড় কোনো পার্থক্য দেখছি না। সারাদেশে পাস করার মতো অবস্থায় যে ক'জন হাক্কানি রাব্বানি আলেম পীর মাশায়েখ দাঈ এবং সহিহ ঈমান আকিদা ও দেওবন্দী মাসলাক ধারণকারী তুলনামূলক দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক নেতা কর্মী রয়েছেন, তাদের সংখ্যা কত হবে? তাদের ভালো মন্দ কাজের দায় দায়িত্বের ভাগীদার হতে পারবেন জেনে, তাদেরকে তাদের সে আসনে আমার অনুসারী অনুগামীরা ভোট দিলে দিতে পারেন। জেনে শুনে অহেতুক কোনো বেদীন জাহেল ও অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার দরকার নেই। জুলাইয়ের পরিবর্তনের জন্য এবং জরুরি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য হ্যাঁ ভোট দেওয়া যেতো, কিন্তু এর প্রশ্নের আওতায় বহু বিষয় এমন লুকোনো আছে, যা ঈমান ইসলাম এবং  মুসলমানদের ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বিরোধী।

৩. আমার তো ভোট দিতে ইচ্ছা করে না। দিলেও কোনো প্রার্থীকে নয় সরাসরি না ভোট দিতে হবে। গণভোটে হ্যাঁ/ না একটাও দেওয়া মুশকিল। একদিকে প্রশ্নের মারপ্যাচ অন্য দিকে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কারের ভালো কিছু বিষয়ের আড়ালে শরিয়ত লঙ্ঘনের ভয়াবহ আশঙ্কার অবস্থা। দীর্ঘ কর্মজীবন তালিম তারবিয়াত, দাওয়াহ, সম্পাদকতা, ইতিহাস দর্শন ধর্ম সমাজ সংস্কৃতি ও রাজনীতি গবেষক বিশ্লেষক, কূটনৈতিক উপদেশক পেশাদারত্বে পার করছি। সবসময়ই দলীয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে আছি, তাই ব্যক্তিগতভাবে আমার চিন্তা ভাবনা বললাম। বাকি আপনাদের ইচ্ছা। প্রত্যেকের ভাবনার স্বাধীনতা আছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ