|| ইমরান ওবাইদ ||
সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিন শুক্রবার। শ্রদ্ধাভরে যাকে জুমার দিন ডাকা হয়। হাদিসে এই দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে। কারণ, পবিত্র এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ফজিলত ও দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত।
প্রতিটি মুমিনের অবশ্য কর্তব্য হলো জুমার দিনের মাহাত্ম্য নিজের মধ্যে ধারণ করা। এর ফজিলত সম্পর্কে অবগত হওয়া। কোরআন-হাদিসে নির্দেশিত আমলগুলোকে যথাযথভাবে পালন করা।
নিচে আওয়ার ইসলাম পাঠকের জন্য পালনীয় ৪টি আমল উল্লেখ করা হলো—
১. জুমার প্রস্তুতি ও নামাজ আদায়:
জুমার দিনের সবচেয়ে বড় আমল হলো—দৈনন্দিনের কাজ স্থগিত করে নির্ধারিত সময়ে, সুন্নত মুতাবেক জুমার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, জুমার দিন যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম বিষয়, যদি তোমরা তা উপলব্ধি করো।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত: ৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুন্নত অনুসারে ভালোভাবে গোসল করবে, সকাল সকাল মসজিদে আসার জন্য রওনা দেবে, বাহনে আরোহণ না করে পায়ে হেঁটে যাবে, ইমামের নিকট বসবে, গুরুত্বসহকারে খুতবা শ্রবণ করবে এবং অহেতুক কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকবে; তাহলে (মসজিদের পথে রাখা) প্রতিটি কদমের বিনিময়ে পূর্ণ এক বছর নফল রোজা রাখা এবং এক বছর নফল নামাজ পড়ার সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)
২. সুরা কাহাফ পাঠ:
হাদিসে নির্দেশিত জুমার দিনের বিশেষ আমলের অন্যতম সুরা কাহাফ পাঠ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এমন এক নূর আলোকিত হবে, যা এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার জীবনকে আলোকিত করে রাখবে।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ৬২০৯)
জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠের আরেকটি বড় ফজিলত হলো দাজ্জালের ফেতনা থেকে মুক্তি। হজরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা আল-কাহফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।’ (সহিহ মুসলিম: ৮০৯)
আরেক হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে সে আট দিন পর্যন্ত সব ধরনের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয় তবে তার ফেতনা থেকেও নিরাপদ থাকবে।’
৩. দোয়া করা:
এই দিনে এমন এক পবিত্র মুহূর্তের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে সময় দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা তা অবশ্যই কবুল করেন।
জাবের ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন এক মুহূর্ত রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণকর বিষয় প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। সুতরাং তোমরা সেই সময়টি আসরের পর দিনের শেষ মুহূর্তে অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
৪. দরুদ পাঠ:
দরুদ পাঠ এই দিনের অন্যতম বিশেষ আমল। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা যে ব্যক্তি জুমার দিনে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, তার সেই দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়।’ (বায়হাকি আস-সুনানুল কুবরা, ৩/২৪৯)
আইও/