মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাদারীপুরে পুকুরে ডুবে জমজ দুই বোনের মৃত্যু ঈমান-আকিদা সংরক্ষণে উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে ৭ দফা দাবি পেশ আটক ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণের নির্দেশ তালেবান সরকারের ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল ও হিজবুত তাওহীদ নিষিদ্ধের দাবি শীর্ষ আলেমদের আলিমে ভর্তি শুরু ২০ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার’  রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ফরিদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা জরিমানা   রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ট্রান্সজেন্ডারবাদ প্রত্যাখানের দাবি ড. সরোয়ারের

জুমআ ব্যস্ত জীবনে আত্মার প্রশান্তি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুর রউফ আশরাফ

জুমআ : ব্যস্ত জীবনে আত্মার প্রশান্তি বর্তমান যুগ ব্যস্ততার যুগ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষ জীবিকার সন্ধান, পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা নানাবিধ দুনিয়াবি কর্মকাণ্ডে এতটাই নিমগ্ন হয়ে পড়ে যে, অনেক সময় নিজের আত্মার প্রয়োজনের কথাই ভুলে যাই আমরা। হৃদয় ক্লান্ত হয়, মন অশান্ত হয়, সম্পর্কগুলো যান্ত্রিক হয়ে পড়ে। এমন এক ব্যস্ত ও অস্থির জীবনে ইসলামের পক্ষ থেকে পবিত্র জুমআ যেন এক প্রশান্তির বার্তা, আত্মার বিশ্রামের দিন এবং ঈমানি শক্তি সঞ্চয়ের মহা মূল্যবান মুহূর্ত। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

“হে মুমিনগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ছেড়ে দাও।”

 (সূরা আল-জুমআ : ৯)

এই আয়াতের অনুবাদে বুঝা যায়, জুমআ কেবল একটি নামাজ নয়; বরং দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতী নিয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান। সপ্তাহের ছয় দিন মানুষ দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত থাকে, আর জুমআ মানুষকে মনে করিয়ে দেয় জীবনের প্রকৃত সফলতা কেবল দুনিয়াবি অর্জনে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিতে।

জুমআর দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন।

হাদীসে এসেছে, এটি মুসলিম উম্মাহর সাপ্তাহিক ঈদের দিন।

এই দিনে গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, দ্রুত মসজিদে গমন করা, সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা এবং বেশি বেশি দরুদ এস্তেগফার পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল।

এসব আমল মানুষের অন্তরে এক ধরনের আত্মিক প্রশান্তি দেয়। বর্তমান সময়ে মানসিক অশান্তি, হতাশা ও উদ্বেগ মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ বাহ্যিক উন্নতি অর্জন করলেও হৃদয়ের শান্তি হারিয়ে ফেলছে। অথচ জুমআর খুতবা মানুষের হৃদয়কে আল্লাহমুখী করে, গুনাহ থেকে সতর্ক করে এবং নৈতিকতা ও মানবতার শিক্ষা দেয়। মসজিদে এক কাতারে ধনী-গরিব, বড়-ছোট সবাই একসঙ্গে দাঁড়ানো মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। জুমআ আমাদের শিখায় মানুষ কেবল দেহের নয়, আত্মারও প্রয়োজন আছে। দুনিয়ার কর্মব্যস্ততার মাঝেও আত্মাকে জীবিত রাখতে হলে আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত এবং দ্বীনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করতে হবে। যে ব্যক্তি জুমআর মর্যাদা উপলব্ধি করে আন্তরিকতার সাথে এই দিনের আমলগুলো পালন করবে, তার হৃদয়ে প্রশান্তি নেমে আসবে ইনশা-আল্লাহ।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ