মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাদারীপুরে পুকুরে ডুবে জমজ দুই বোনের মৃত্যু ঈমান-আকিদা সংরক্ষণে উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে ৭ দফা দাবি পেশ আটক ব্যক্তির সঙ্গে মানবিক আচরণের নির্দেশ তালেবান সরকারের ট্রান্সজেন্ডারবান্ধব শ্রম আইন বাতিল ও হিজবুত তাওহীদ নিষিদ্ধের দাবি শীর্ষ আলেমদের আলিমে ভর্তি শুরু ২০ সেপ্টেম্বর, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার’  রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ফরিদপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা জরিমানা   রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ট্রান্সজেন্ডারবাদ প্রত্যাখানের দাবি ড. সরোয়ারের

মুমিনের অন্তরে ভয় ও দুঃখের প্রভাব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| মুহাম্মদ রাফে ||

মানুষের জীবনে ভয় ও দুঃখ অনিবার্য বাস্তবতা। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য এগুলোর সঠিক উপলব্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভয় কেবল আল্লাহর জন্যই হওয়া উচিত। অন্যায়, দারিদ্র্য কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকে ভয় করা একজন মুমিনের অন্তরে তাওয়াক্কুলকে দুর্বল করে দেয়।

যখন মানুষ আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে ভয় করতে শুরু করে, তখন সে ধীরে ধীরে নিজের ভরসার কেন্দ্র পরিবর্তন করে ফেলে। ফলে তার অন্তর অস্থির হয়ে ওঠে এবং জীবনের নানা দুশ্চিন্তা তাকে গ্রাস করে। অথচ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ নির্ভর করে, তার অন্তর ধীরে ধীরে সব ভয় থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং সে এক অনন্য প্রশান্তি অনুভব করে।

মহান আল্লাহ বলেন, ﴿لَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ﴾ “তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো।” (সূরা আলে ইমরান: ১৭৫)

এ আয়াত আমাদের শেখায়, প্রকৃত ভয় কেবল আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, বান্দার অন্তরে যখন আল্লাহর ভয় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সে অন্য সব ভয় থেকে মুক্ত হয়ে যায়। কারণ তখন সে উপলব্ধি করে, সবকিছুই আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে, কোনো কিছুই তাঁর ইচ্ছার বাইরে নয়।

বাস্তব জীবনে আমরা যখন বিপদে পড়ি, চাকরি হারানো, ব্যবসায় ক্ষতি বা অন্য কোনো সংকটে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ভয় আমাদের গ্রাস করে। কিন্তু একজন মুমিনের উচিত এই দুনিয়ার প্রকৃত স্বরূপকে স্মরণ করা। এই জীবন একটি সাময়িক পরীক্ষা মাত্র, যার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে যাচাই করেন।

দুঃখ ও কষ্ট কখনোই উদ্দেশ্যহীন নয়। বরং এর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে শিক্ষা দেন, তাঁর দিকে ফিরে আসার সুযোগ করে দেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ বিপদের মুহূর্তে আল্লাহর দিকে না ফিরে মানুষের উপর নির্ভর করতে শুরু করে। এর ফলে তার অন্তর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষীণ হয়ে যায়।

এজন্যই একজন মুমিনের উচিত দারিদ্র্যকে ভয় না করা, অন্যায়কে ভয় না করা, এমনকি ভবিষ্যৎ নিয়েও আতঙ্কিত না হওয়া। বরং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা স্থাপন করা। কারণ তিনিই একমাত্র আশ্রয় এবং তিনিই সকল সমস্যার সমাধানকারী।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন, যদি কোনো মানুষের ভাগ্যে দারিদ্র্য নির্ধারিত হয়, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর হতে পারে। কারণ এর মাধ্যমে তাকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়। একইভাবে অসুস্থতাও কখনো কখনো আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের রহমত, যা বান্দাকে পরিশুদ্ধ করে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষ উপায় বা মাধ্যম গ্রহণ করা পরিত্যাগ করবে। ইসলাম উপায় গ্রহণকে উৎসাহিত করে। কিন্তু সমস্যা তখনই সৃষ্টি হয় যখন মানুষ উপায়ের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল দুর্বল হয়ে যায়।

অতএব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের উচিত উপায় গ্রহণ করা, কিন্তু অন্তরকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল রাখা। কারণ সফলতা উপায়ের ওপর নয়। বরং তা নির্ভর করে আল্লাহর ইচ্ছা ও ফয়সালার ওপর।

মহান আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থনা, যেন তিনি আমাদের অন্তরে দৃঢ় ঈমান ও ইয়াকিন দান করেন, আমাদের ভয় ভীতি দূর করে তাঁর প্রতি সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হওয়ার তাওফিক দান করেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, ডিপার্টমেন্ট অব তাফসির অ্যান্ড কোরানিক সায়েন্সেস, জামিয়াতুল আজহার, কায়রো, মিসর

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ