সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিজিটাল যুগে উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু বিচ্যুত চিন্তার নিন্দা করাই যথেষ্ট নয়; বরং সত্য-মিথ্যা, সঠিক তথ্য ও অপপ্রচার এবং জ্ঞান ও অজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম সচেতন মন গড়ে তোলা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশ্ব ফতোয়া সংস্থাগুলোর সাধারণ সচিব অধ্যাপক ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদ। তিনি বলেছেন, ইসলামের মধ্যপন্থা প্রতিষ্ঠা, তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্তি ও মেরুকরণ থেকে রক্ষা এবং সমকালীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধর্মীয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) মিসরের আশ-শারকিয়া প্রদেশের আশিরে রমজান শহরে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বালিকা অনুষদের প্রথম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আল-আজহারের প্রধান শায়খ অধ্যাপক ড. আহমদ আত-তাইয়েবের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইসলামের মধ্যপন্থা প্রতিষ্ঠা ও ডিজিটাল যুগে বুদ্ধিবৃত্তিক উগ্রবাদ মোকাবিলায় জ্ঞানের সমন্বয়’। এতে উপস্থিত ছিলেন আশ-শারকিয়া প্রদেশের গভর্নর প্রকৌশলী হাজেম আল-আশমুনি।

গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, দ্রুতগতির যোগাযোগপ্রযুক্তি মানুষের চিন্তা ও উপলব্ধি গঠনের পদ্ধতি বদলে দিয়েছে। মুহূর্তেই এক সমাজের ধারণা অন্য সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এখন শুধু উগ্রবাদী বক্তব্যের জবাব দেওয়া কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য সংশোধন করাই যথেষ্ট নয়; বরং তথ্যের উৎস যাচাই, সঠিক-ভুল শনাক্ত এবং নির্ভরযোগ্য জ্ঞান গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করাও জরুরি।

তিনি বলেন, উগ্রবাদ মোকাবিলায় এমন জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন, যা মানুষের ভাষায় কথা বলবে, তাদের প্রশ্নের উত্তর দেবে এবং বাস্তবতা বুঝে সমস্যার সমাধান তুলে ধরবে। তবে এ ক্ষেত্রে ধর্মের মৌলিক নীতি ও উদ্দেশির সঙ্গে আপস করা যাবে না। তাঁর মতে, সঠিক উপলব্ধি ও সচেতনতা উগ্র চিন্তা এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা।

ইসলামের মধ্যপন্থা সম্পর্কে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, এটি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা; কোনো সাময়িক সংকটের কারণে গৃহীত অবস্থান নয়। এর ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার, ভারসাম্য এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার দেওয়া। মধ্যপন্থা একদিকে ধর্মের মৌলিক নীতিতে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয়, অন্যদিকে বাস্তবতা ও সময়ের পরিবর্তন বুঝে দায়িত্বশীলভাবে চলতে শেখায়। এটি আত্মকেন্দ্রিকতা কিংবা বাস্তবতার সঙ্গে আপস—কোনোটিই সমর্থন করে না।

তিনি বলেন, উগ্রবাদ একটি জটিল সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যা। তাই একক কোনো বিষয় বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এটি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ধর্মীয় জ্ঞান ধর্মীয় গ্রন্থের সঠিক ব্যাখ্যা ও বিধানের উদ্দেশ্য বুঝতে সহায়তা করে; ভাষাবিজ্ঞান পাঠের অর্থ ও প্রেক্ষাপট অনুধাবনে ভূমিকা রাখে। মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান উগ্র চিন্তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পেছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করে। দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা চিন্তাকে শৃঙ্খলিত করে, আর গণমাধ্যম, যোগাযোগপ্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি ডিজিটাল পরিবেশে মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের কৌশল বুঝতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শিক্ষাবিজ্ঞান সমন্বিত ব্যক্তিত্ব, সমালোচনামূলক চিন্তা ও সংলাপের মানসিকতা গড়ে তোলে।

মিসরের দারুল ইফতার কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি ওয়েবসাইট, অ্যাপ্লিকেশন ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ধর্মীয় সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া, বিভিন্ন সংশয়ের জবাব দেওয়া, ভুল ধারণা সংশোধন এবং সমকালীন সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়ার কাজ করছে। আধুনিক আর্থিক লেনদেন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগসংক্রান্ত বিষয়ও এর আওতায় রয়েছে। মানুষের প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর দেওয়া এবং তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো শোনা বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তি প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্মেলনে ছাত্রীদের উদ্দেশে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, তাঁরা শুধু জ্ঞান গ্রহণকারী নন; সচেতনতা তৈরির অংশীদারও। তথ্যের উৎস যাচাই, চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং জ্ঞানকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে তাঁরা সচেতন পরিবার, সংহত সমাজ ও মূল্যবোধসম্পন্ন দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন মানুষের চিন্তাশক্তি কেড়ে নিতে কিংবা মতভেদকে শত্রুতায় পরিণত করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপন্থা দুর্বলতার পরিচয় নয়, সংলাপ মানেই মৌলিক বিশ্বাস বিসর্জন দেওয়া নয় এবং ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কোনো বিরোধ নেই। উচ্চস্বরে কথা বলার চেয়ে যুক্তির শক্তি বেশি কার্যকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্মেলনে আশ-শারকিয়া প্রদেশের গভর্নর হাজেম আল-আশমুনি মিসরের দারুল ইফতার ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি ইসলামের মধ্যপন্থা প্রচার, ভুল ধারণা সংশোধন এবং উগ্র চিন্তা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালামা দাউদ, বালিকা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হামদি আল-হুদহুদ, অনুষদের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা, ইসলামি গবেষণা একাডেমির প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: গ্র্যান্ড মুফতির ফেসবুক পেইজ

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ