জুলাই অভ্যুত্থানের বিভীষিকাময় দিন ছিল ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। এদিন পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে নিহত হন শতাধিক মানুষ। নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মাঝে সন্ধ্যায় মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে পাঁচ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। আর তাতেই পতন ঘটে দেড় যুগের আওয়ামী শাসনের।
৪ আগস্ট ২০২৪। কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতন আন্দোলনে এদিন গোটা দেশ কার্যত রূপ নেয় এক রণক্ষেত্রে। আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডার ও সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায় ছাত্র–জনতা। মারণাস্ত্র হাতে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা চালায় সরকারের বিভিন্ন বাহিনী। এক দিনে নিহত হন প্রায় শতাধিক মানুষ।
৪ আগস্ট সকাল থেকেই রাজধানীতে ছিল চরম উত্তেজনা। বেলা বাড়তেই শুরু হয় সংঘর্ষ। অগ্নিগর্ভে রুপ নেয় রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, মোহাম্মদপুর, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। আন্দোলনের মাত্রা ছড়িয়ে পড়ে জেলা শহরগুলোতে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যার আগেই সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ঘোষণা করা হয় তিন দিনের সাধারণ ছুটি।
অভ্যুত্থান সফল হলে এরপর অন্তর্বর্তী সরকার কেমন হবে, সেটির একটি রূপরেখা ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। আর শাহবাগে ব্যাপক জমায়েতের মধ্যে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শুরুতে ছয়ই আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ পালনের কথা থাকলেও পরে সেটি একদিন এগিয়ে পাঁচই আগস্ট নির্ধারণ করেন আন্দোলনের নেতারা। সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আসার আহ্বান জানান সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এছাড়া অন্যান্য সমন্বয়করা নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে গণভবন ঘেরাওয়ের কথা জানান। এভাবেই চূড়ান্ত পরিণতির দিক এগিয়ে যেতে থাকে গণঅভ্যুত্থান।
আরএইচ/