সমকামিতা ইসলামে শুধু হারামই নয় বরং এটি অভিশপ্ত অপরাধ। এই অপরাধের কারণে আল্লাহ তাআলা কাওমে লুত তথা লুত আলাইহিস সালামের অপরাধী জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। হাদিসে সমকামিতার এ মরাত্মক অপরাধের পাশাপাশি নারীদের সঙ্গে অনৈতিক উপায় অবলম্বন করে তাদের পেছনের রাস্তায় যৌনাচারকেও কবিরা গোনাহ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এসব অপরাধীদের দিকে তাকাবেন না মর্মেও হাদিসের বর্ণনা থেকে সুস্পষ্ট। বিংশ শতাব্দী জুড়ে, মনোবিজ্ঞানের সাধারণ মানদণ্ড অনুযায়ী রোগনির্ণয়ক আদর্শসমূহের পরিভাষায় সমকামিতাকে মানসিক অসুস্থতা হিসেবে দেখা হত।
বর্তমানে অনেকে এই অপরাধের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই আবার বিভিন্ন যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে একে স্বাভাবিক বলতে চাইছেন। এর ক্ষতি-ভয়াবহতা সম্পর্কে আওয়ার ইসলামের সম্পর্কে কথা বলেছেন রাজধানীর উচ্চতর ইসলামী আইন ও ফতোয়া বিষয়ক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান মুফতি, মুফতি এনামুল হক কাসেমী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রতিবেদক নুরুদ্দীন তাসলিম।
ইসলামে সমকামিতার ভয়াবহতা বিষয়ে জানতে চাই?
মুফতি এনামুল হক কাসেমী: সমকামিতার ক্ষতি ও ভয়াবহতা বুঝতে অনেক বেশি পড়াশোনা ও জ্ঞানের প্রয়োজন নেই। একটু খেয়াল করলেই বুঝা যায়, এটা সম্পূর্ণ মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতি বিরোধী এক অপরাধ।
এর ভয়াবহতা ও নিকৃষ্টতা বুঝতে শরয়ী দৃষ্টিকোণ, শরিয়া আইন- এসবের প্রয়োজন নেই, স্বাভাবিক দৃষ্টিতে চিন্তা ভাবনা করলেই বোঝে আসে এটা কতটা ঘৃণ্য কাজ ।
পৃথিবীর সব প্রাণীর মাঝেই পুরুষ-নারী রয়েছে। সবাই তাদের যৌন চাহিদা পূর্ণ করে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ থেকে। সমলিঙ্গের সঙ্গে বিকৃত যৌনচার কোন প্রাণীর মাঝেই নেই।
যারা সমকামিতার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন তারা এমন একটি নিকৃষ্টতম কাজের সঙ্গে নিজেদের জড়াতে চান যেটা পশুদের মাঝেও নেই।
পৃথিবীতে এমন অনেক অবৈধ ও হারাম কাজ আছে যেটা জান্নাত বাসীদের জন্য জায়েজ হিসেবে গণ্য হবে; কিন্তু স্বভাব ও প্রকৃত বিরোধী সমকামিতার মতো অপরাধ জান্নাতেও হারাম হিসেবেই গণ্য করা হবে।
ইতিহাসের আলোকে সমকামিতার ভয়াবহতা