আওয়ার ইসলাম: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, সরকারকে অনুরোধ করছি, শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের দিকে নজর না দিয়ে গবেষণার দিকে নজর দিন। এ পর্যন্ত যতগুলো টিকা বেরিয়েছে দেশের তরুণ গবেষকরা ছয় মাসের মধ্যে সবগুলো তৈরি করতে পারবে।
সোমবার দুপুরে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নতুন সার্স কোভ-২ ভেরিয়েন্ট শনাক্ত বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৪৩ বিলিয়ন ডলার মজুদ রয়েছে। এটা অত্যন্ত ভালো খবর। এই টাকা যেন ব্যবসায়ীরা খেয়ে না ফেলে। সেজন্য সরকারকে অনুরোধ করছি, মাত্র হাফ বিলিয়ন ডলার, জনপ্রতি মাত্র ৩ ডলার সরকার গবেষণার জন্য বিনিয়োগ করুক। আমাদের প্রতিটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতে পারবে। তাদেরকে গবেষণার সুযোগটা করে দিতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটা মানুষের মঙ্গলার্থে এই গবেষণা করা প্রয়োজন। এই জন্য আমরা বলছি কোয়ার্টার বিলিয়ন গবেষণার কাজে, বাকি কোয়াটার ভ্যাকসিন উৎপাদনে ব্যয় করা হবে। বর্তমান সময়ে বাজারে যতগুলো ভ্যাকসিন রয়েছে তার সবগুলোই আমরা ছয় মাসে তৈরি করতে পারি।
এসময় জানানো হয়, গণস্বাস্থ কেন্দ্র সমমনা প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে কোভিড-১৯ সংগ্রামে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। গণস্বাস্থ্য-আরএনএ মলিকুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দক্ষ গবেষকরা প্রাপ্ত ক্লিনিকাল নমুনা থেকে সার্স কোভ-২ ভেরিয়েন্টের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন।
গবেষকরা জানান, বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা ভাইরাস সদৃশ্য (ঊ৪৮৪ক) মিউটেশন পাওয়া গেছে। মিউটেশন যেকোনো ভাইরাসের সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য। ভাইরাস প্রতিনিয়ত এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। একইসঙ্গে ভ্যাক্সিন উৎপাদক কোম্পানিগুলোকেও ভ্যাকসিনের চরিত্র পরিবর্তন করতে হবে।
তারা বলেন, সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাক্সিনেশন দ্রুত শেষ করতে হবে। ভবিষ্যতে করোনা ভাইরাসের মারাÍক কোনো মিউটেশনের বিকাশ বাধাগ্রস্থ করতে পারব।
-এএ