সাজ্জাদ হুসাইন: সৌদি আরবের ইসলামিক স্কলার, সালমান আল আওদাহর ছেলে আব্দুল্লাহ আল আওদাহ জানান, কারাগারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তার বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। বিদেশে অবস্থানরত আব্দুল্লাহ আল আওদাহ গত মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় এসব কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, রিয়াদের বিশেষ আদালতে কঠোর নিরাপত্তায় তার বাবার রায়কে কেন্দ্র করে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিশিষ্ট সৌদি আলেমের ফাঁসির ব্যাপারে পাবলিক প্রসিকিউশনের দাবির কথা উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ আল আওদাহ বলেন, বৈঠকে আদালত রীতিমতো তার বাবার ফাঁসি দাবির বিষয়টির পুনরাবৃত্তি করে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর হতে চলেছে, তার বয়বৃদ্ধ বাবা নির্জন কারাগারে বন্দি। এসময় তার উপর নানা ধরনের অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এতে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি লোপ পাওয়ার আশঙ্কা বেশ প্রকট। দিনি বলেন, অতিসত্বর আমি এ নির্যাতনের বিস্তারিত বিবরণী প্রকাশ করবো।
প্রায় এক বছর পর আদালত ২০১৭ সালে গ্রেফতার হওয়া সালমান আল-আওদাহর বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ উত্থাপন করে। রিয়াদ আরোপিত কাতার অবরোধ বিরোধিতা, মুসলিম ব্রাদারহুডকে সহায়তা দেয়া, কাতারের রাজ পরিবারের সাথে সম্পর্কসহ জাতীয় নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্থ করা ছিলো অন্যতম বলে আদালত থেকে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, মোহাম্মদ বিন সালমান যেকোনো মূল্যে তার শত্রুদের নির্মূল করেই ছাড়বেন। এখন যদি সালমান আল আওদাহর ফাঁসি কার্যকর করা হয়, তাহলে এর পেছনে দায়ী এটা নয় যে তিনি সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছেন বরং নির্দ্বিধায় সঠিক, মধ্যপন্থার ইসলাম প্রচার করাই এর একমাত্র কারণ বলে মতামত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, সৌদি রাজনীতিতে মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রবেশের পর থেকে সৌদি আরবে বিভিন্ন সাংবাদিক, সমাজকর্মী, ইসলামিক স্কলারদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা স্পষ্ট মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠগুলো। সূত্র: আল উম্মাহ
এমডব্লিউ/