কাউসার লাবীব: অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে আবারও নতুন করে সহস্রাধিক বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে তারা পূর্ব অধিকৃত জেরুসালেমে ১২শরও বেশি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। আর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা গিভাট হ্যামাতোস অঞ্চলকে বেঁছে নিয়েছে।
ইসরায়েলের ওই বসতি স্থাপন পরিকল্পনা ঘোষণার পর বিষয়টির নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনিরা। তারা বলেছে, ‘নেতানিয়াহুর সহস্রাধিক বসতি স্থাপনের ঘোষণাই হচ্ছে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পদ্ধতিগত লঙ্ঘন। কেননা এ পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে উঠবে। কারণ এটি হোমাত এবং পূর্ব অধিকৃত জেরুসালেমের মধ্যে বিভক্ত হয়ে থাকবে।’
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা চুক্তি নামের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক জেরুসালেম শহরকে ইসরায়েলি ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহর জেরুসালেমের বাইরের আবু দিস নামের একটি ছোট গ্রামকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই পরিকল্পনায় জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরের অংশবিশেষ ও গাজা উপত্যকা নিয়ে নামমাত্র একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছে, যে রাষ্ট্রের নিজস্ব কোনও সেনাবাহিনী থাকবে না। এই পরিকল্পনা ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘ইসরায়েলের এই ঘোষণার ফলে নবনির্বাচিত মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন ও ইসরায়েল প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে। কেননা বাইডেন নির্বাচনী ওয়াদায় বলেছিল নির্বাচিত হলে জেরুসালেম থেকে তাদের দূতাবাস সরিয়ে নিবে। যা প্রমাণ করে তিনি ট্রাম্পের ইসরায়েল নীতি থেকে সরে আসবেন।’
১৯৯০ এর দশকের শুরু থেকে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বেশ কয়েক দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুসালেমকে এর রাজধানী বানাতে। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুসালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল। অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে প্রায় ২০০ বসতি স্থাপন করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুসালেমে স্থাপিত এসব বসতিতে প্রায় ৬ লাখ ইসরাইলি বসবাস করে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এ বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরায়েল তা মানতে নারাজ।
-কেএল