সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ মাঘ ১৪৩২ ।। ৩০ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাহিদ ইসলামকে শোকজ ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহতের আশঙ্কা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সংহতি প্রকাশ শায়খে চরমোনাইয়ের আসনে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা জামায়াতের ‘তাঁর বাংলা ভাষাজ্ঞান ছিল ঈর্ষণীয়, মেধায় ছিলেন তুখোড়’ ভারতে খালি বাড়িতে নামাজ পড়ার অভিযোগে আটক ১২ শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলায় শোকজ, প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না : আখতার হোসেন নূরানী বোর্ডের কেন্দ্রীয় সনদ পরীক্ষার মেধাবীদের পুরস্কার বিতরণ শুরু জোটের স্বার্থে মনোনয়ন প্রত্যাহার জমিয়ত নেতা ড. শোয়াইব আহমদের

মাওলানা হাসান আল-হাশিমির ইন্তেকাল: ভারি হয়ে ওঠেছে দেওবন্দের বাতাস

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ কাসিম ওজহারী।।
অনুবাদ: আবদুল্লাহ তামিম

মালি চলে গেলে বাাগনের ফুলগুলোর দুঃখের আর শেষ থাকে না। মাওলানা হাসান আল-হাশিমির ইন্তেকালে এমই শূণ্যতা ছেয়ে গিয়েছে ভারতের ইলমি বাগানে।
দেওবন্দের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হযরত মাওলানা হাসান আল-হাশমি গত বুধবার এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে আল্লাহর মেহমান হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে আমি খুব দুঃখিত হয়েছি। এটা অবিশ্বাস্য যে মাওলানা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মওলানা ১৯৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি ইলমি জগতে অনেক কাজ করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে তার কাজগুলো। তার সেবায় দেওবন্দ এলাকার হিন্দু মুসলিম সবাই সমানভাবে ‍উপকৃত। তার বিয়োগে ভারি হয়ে ওঠেছে দেওবন্দের বাতাস।

দারুল উলূম দেওবন্দে ছাত্র থাকাকালীন আমি অনেকবার মাওলানাকে দেখেছিলাম। মাওলানাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি খুব মিশুক স্বভাবের এবং অসামান্য গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। তিনি সকলের সাথে অত্যন্ত ভালবাসা ও স্নেহের সাথে সাক্ষাত করতেন, ছাত্রদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ভালোবাসার আচরণ করতেন। আল্লাহ তাকে ভাল চরিত্র ও সুন্দর চেহারা উভয়ই দিয়েছিলেন। তিনি একজন দীনের দায়ি ও আলেম ছিলেন। সর্বোত্তম শারীরিক ও আধ্যাত্মিক নিরাময়কারী ছিলেন। দেওবন্দে তিনি খিদমত খলক নামে একটি সংস্থা চালাতেন। আমার মনে আছে একবার আমি তার পাশে বসেছিলাম। তিনি বলছিলেন, আমি কেবল কুরআন ও হাদিসই ব্যবহার করি। আমি মাওলানা সৈয়দ আবু আল-হাসান আলী নদভীর সাথেও একইরকম আচরণ করেছি, একইভাবে ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা আসাদ মাদানী সাহেবকেও আমিও চিকিত্সা করেছি। প্রায় পাঁচ হাজার দেওবন্দ মহিলা যাদের সন্তান ছিল না। তাদের চিকিৎসা করেছি।

তিনি কয়েক ডজন বইয়ের লেখকও ছিলেন তিনি। মাসিক তেলেসমাতি দুনিয়ার সম্পাদক ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর তিনি মাওলানা আমির উসমানির জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা তাজাল্লিরও সম্পাদক ছিলেন। বিষয়গুলির বিষয়েও তার একটি মতামত ছিল, একই সাথে তিনি একজন দুর্দান্ত কবিও ছিলেন। একজন সামাজিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন, তিনি সামাজিকভাবে জাতীর সেবাও ভালভাবে পালন করেছেন। তার ঘরে অনেক পুরষ্কার ও সম্মাননা ঝুলে আছে। সমাজের সেবায় তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

আমরা যদি আবার দেওবন্দে যাই, আর তাকে দেখতে না পাই, মনটা কেঁদে ওঠবে। আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হবে। পৃথিবীতে কিছুই স্থায়ী নয়, সবকিছুই একদিন শেষ হবে। সবাই চলে যাবে। মাওলানা আমাদের কাছ থেকে চলে গেছেন তবে তাঁর ভালবাসা সর্বদা আমাদের সাথে থাকবে। আমি তার সমস্ত প্রিয় মানুষ পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের প্রতি সমবেদনা পেশ করছি। বিশেষত হজরত পুত্র মাওলানা ওয়াক্কাস আহমদের খেদমতে সমবেদনা জানাই। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।

সূত্র: বাসিরাত অনলাইন


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ