আওয়ার ইসলাম: আজারবাইজানের ড্রোন হামলায় নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চলের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আরায়িক হারুতুনিয়ান নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাকু। তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আজারবাইজানের বার্তা সংস্থা হাকায়িক কাফকাজ-এর বরাত দিয়ে ইরানি গণমাধ্যম পার্সটুডে এমন খবর দিয়েছে। আজারি বার্তা সংস্থাটি দাবি করেছে যে, আজারবাইজানের সামরিক বাহিনী নাগর্নো-কারাবাখের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হারুতুনিয়ানের সামরিক বহরে টার্গেট করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে তিনি নিহত হয়েছেন।
এ হামলার কবে ঘটনা ঘটেছে এবং আজারবাইজান এ ব্যাপারে কতটা নিশ্চিত হয়েছে, সে বিষয়ে দেশটির বার্তা সংস্থাটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে আর্মেনিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়নি। তবে গত শনিবার আরায়িক হারুতুনিয়ান বলেছিলেন যে, কারাবাখের শুশা অঞ্চলটি যদি আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, সেক্ষেত্রে তিনি নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করবেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার মধ্যস্থাতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান দুই দফা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও তা কার্যকর হয়নি। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ দুটিকে প্রথম দফায় গত ১০ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ১৭ অক্টোর সমঝোতায় আনার চেষ্টা করে মস্কো।
দেশ দুটির চলমান সংঘাত বন্ধে রুশ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেয় তুরস্ক। তবে বিষয়টি যুদ্ধরত দেশ দুটির সম্মতির ওপর নির্ভর করছে বলে পরোক্ষভাবে এড়িয়ে যায় রাশিয়া। অভিযোগ রয়েছে, আর্মেনিয়ার পক্ষে রাশিয়া এবং আজারবাইজানের পক্ষে তুরস্ক অবস্থান নিয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্থানীয় সময় গত সোমবার সকালে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে তৃতীয় দফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর কয়েক মিনিটের মাথায় উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ করে।
উল্লেখ্য, অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারি ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত হলেও ৯০-এর দশক থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। তাদের সহায়তা করা আর্মেনিয়ার সঙ্গে আজারিদের দীর্ঘ যুদ্ধে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর যুদ্ধ বিরতিতে ছিল দেশ দুটি।
এদিকে, রোববার আজারি প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ স্পষ্টভাবে বলেছেন, যেকোনো সমাধান তারা মানবেন না। বরং আর্মেনিয়াকে অবশ্যই নাগর্নো-কারাবাখ ছাড়তে হবে। এটাই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করার একমাত্র পথ। নয়তো যুদ্ধ চলবে এবং এর শেষ দেখে ছাড়বে তার দেশ।
-এটি