শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৭ রজব ১৪৪৭


ওসমানীনগরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বালাগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি> সিলেটের ওসমানীনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিপন মিয়া (২৪) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত শিপন আহমদ ঈশ্রাগ্রাই গ্রামের আশিক মিয়া ছেলে।

বুধবার ইফতারের পূর্বে উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির ঈশাগ্রাই গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, একই গ্রামের আশিক আলী, আশিক আলীর ছেলে রিপন আহমদ, আব্দুল হক, আব্দুস সালাম, আনহার মিয়া, নজির মিয়া ও নজির মিয়ার ছোট এক শিশুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭জন।

হতাহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে আশিক মিয়া ও আব্দুল হকের অবস্থা আশংকাজন বলে তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ঈশাগ্রাই গ্রামের জয়নুল হক ধন মিয়ার সাথে একই গ্রামের নিহত শিপনের পিতা আশিক আলীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সাম্প্রতি আশিক আলী গংরা গ্রামের মসজিদের পুকুরে মাছ মারাতে গেলেও ধন মেম্বাবারের পক্ষ থেকে বাধা দেয়া হয় বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।

বুধবার বিকেল থেকে ধন মেম্বারের পক্ষের এলাইচ মিয়ার সাথে আশিক মিয়ার পক্ষের ছোরাব মিয়ার মধ্যে গরুর ধান খাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে ইফতারের ৮/১০ মিনিটি আগে ধন মেম্বারের নেতৃত্বে এক পক্ষ এবং আশিক আলীর নেতৃত্বে অপর পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এ সময় ধন মেম্বারের পক্ষের লোকজন শিপন মিয়াকে দেশী অস্ত্র (সুলফি) দিয়ে আঘাত করে। এসময় শিপনসহ উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিপন মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিলে রাত সাড়ে ৭ টার সময় হাসপাতালে শিপন মারা যান।

নিহতের চাচা রানা মিয়া বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ধন মেম্বারের সাথে আমার ভাই আশিক মিয়ার বিরোধ চলে আসছে। আমার ভাইয়ের রাস্তা ধন মেম্বার পাকা দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। আজ এলাইছ মিয়ার সাথে ছোরাব মিয়ার ঝগড়াকে কেন্দ্র করে আমার ভাইয়ের উপর হামলা করে এলাইচ। এ সময় ধন মেম্বার এলাইচের পক্ষ নিয়ে আমার ভাই ভাতিজাদের উপর হামলা চালায়। ধন মিয়া নিজে ধারালো সুলফি দিয়ে আমার ভাতিজাকে আঘাত করে হত্যা করে। আমি বাধা দিয়েও ধন মিয়াকে আটকাতে পারিনি। আমি আমার ভাতিজার হত্যার বিচার চাই।

এদিকে, প্রতিপক্ষের হামলায় শিপন আহমদের খুনের ঘটনায় মাইক্রোযোগে পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহজনক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই সন্দেহ ভাজনদের উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউপির গলমুকাপন এলাকা থেকে আটক করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

ওসমানীনগর থানার ওসি রাশেদ মোবারক দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মাইক্রোসহ কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। জ্ঞিাসাবাদ করে যদি দেখা যায় তারা খুনের সাথে জড়িত আছে তাহলে তাদের আইনের আওতায় নেয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে এখন নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ