রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৪ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৯ রজব ১৪৪৭


ইসলামের ইতিহাসে হজ কি কখনো বন্ধ ছিল?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বেলায়েত হুসাইন।।

হিজরি নবম বর্ষে মুসলমানদের ওপর পবিত্র হজ ফরজ হওয়ার পরে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে। ইসলামধর্মের এই পঞ্চম স্তম্ভ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মুসলমান মক্কা মুকাররমায় সমবেত হয়।

ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ একাধিকবার এমন কিছু কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে যার কারণে তারা ফরজ বিধান হজ যথাসময়ে আদায় করতে পারেনি। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা হজের মৌসুমে হজযাত্রীদের মক্কায় আসতে বাধা দিয়েছে।

যে কারণে হজযাত্রীরা হজ করতে আসতে পারেনি- এরমধ্যে শত্রুর ভয়, বন্যা ও মহামারির মতো একাধিক প্রতিবন্ধকতা উল্লেখযোগ্য। এই সময়গুলিতে স্বল্পপরিসরে অল্পসংখ্যক মুসল্লিদের উপস্থিতিতে হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

আর ইদানিং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ওমরাহ পালনে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে তা আগের সব সমস্যা ছাড়িয়ে গেছে। সৌদি প্রশাসন করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই ওমরাহ পালনসহ মক্কা মুকাররমায় প্রবেশে সাধারণ যাত্রীদের জন্যও সীমাবদ্ধতা জারি করেছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, খুব শিগগির যদি করোনার উদ্ভুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তাহলে চলতি বছরের মূল হজের কার্যক্রমেও বিধিনিষেধ আসতে পারে- যা আগের সমস্যাগুলির চেয়ে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

ইসলামের ইতিহাসে এর আগেও বহুবার রোগ, সঙ্ঘাত, দস্যু ও আক্রমণকারীদের তৎপরতা বা অন্যান্য কারণে হজ বাতিল করা হয়েছে এবং এই হিসেবে হজ বন্ধ করা নিয়ে মানুষের আশঙ্কা একেবারেই অমূলক নয়। সম্প্রতি সৌদি কিং আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অ্যান্ড আর্কাইভস ইতিহাসে ৪০ বার হজ বাতিল করা হয়েছিল বা হজযাত্রীর সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল উল্লেখ করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, ইতিহাসে হজ বন্ধ থাকার নজির আছে। হিজরতের নবম বছরে হজ পালন ফরজ ইবাদত হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর থেকে এ যাবৎ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ৪০ বার হজ স্থগিত হয়েছিল। যার মধ্যে ১২ বার স্থগিত করা হয়েছিল সম্পূর্ণরূপে। করোনাভাইরাসের কারণে হজ ও ওমরাহ ২০২০ সালে স্থগিত হওয়া অসম্ভব নয়, কিন্তু তা নির্ভর করবে এই রোগের সংক্রমণ আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার ওপর।

ইতিহাসে অনেকবার হজ বন্ধ কিংবা সীমিত করা হলেও ১৯৩২ সালের পর একেবারেই হজ বন্ধ থাকার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে একটি পত্রিকার খবরে বলা হয়।

১৮১৪ সালে হেজাজ ভূমিতে দেখা দিয়েছিল প্রাণঘাতি প্লেগ- এতে আক্রান্ত হয়ে এ অঞ্চলে অন্তত ৮ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। এই মৌসুমে হজ পালনে কঠিন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বিশ্ববাসীর। এর কয়েকবছর পরে ১৮৩৭ সালেও একটি মহামারি হানা দেয় আরব অঞ্চলে। এই মহামারি ১৮৯২ সাল নাগাদ স্থায়ী হয়েছিল- এর মধ্যকার সময়ে এক দিনেই ১ হাজার হজযাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

১৮১৭-১৮২৪ সালে এশীয় অঞ্চলে কলেরা মহামারির রূপ ধারণ করেছিল। ভারতের কলকাতা শহর থেকে এই রোগের বিস্তার ঘটে এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরের উপকূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এর আগেও ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে কলেরা আক্রমণ করে- যা ইংরেজ সেনাবাহিনিসহ হাজার হাজার ভারতীয়র মৃত্যুর কারণ হয়।

এই মৌসুমে হজ পালন করতে আসা কয়েক হাজার ভারতীয় মুসল্লি মক্কার পথে থাকা অবস্থায়ই ইন্তেকাল করেন। এর পরে ১৮৩১ সালেও ভারতে কলেরা হানা দেয় এবং এতেও বহুসংখ্যক হাজি সাহেবের ইন্তেকাল হয়।

১৯৬৩ সালে আরেকবার ভারত থেকে কলেরার প্রাদুর্ভাব ঘটে। যার প্রভাব ইউরোপ ও আফ্রিকা পর্যন্ত পৌঁছে যায় এবং এতেও অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ১৮৫৮-১৮৬৪ সালে মিসরে এক মহামারির আবির্ভাব হয়-এতেও শতশত হজযাত্রীর মৃত্যু হয়। যার কারণে এসব মৌসুমে মক্কার পবিত্র কাবা গৃহে মুসল্লিদের সমাগম কম হয়।

সূত্র: আল জাজিরা

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ