শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৮ রজব ১৪৪৭


দেশের বিভিন্ন জায়গায় সূর্যগ্রহণের নামাজ আদায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম।।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় আজ সূর্যগ্রহণের নামাজ আদায় করা হয়। এর মধ্যে রাজশাহী সাইদপুর, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ  ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় এ সালাতুল খুসুফ আদায় করা হয়।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সিলেটের আত-তাক্বওয়া মাসজিদে আজ সকাল ৯.৩০ মিনিটের এ নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ভূইগড় ঈদগাহেও এলাকাবাসীর উদ্যোগে সালাতুুল খুসুফ বা সূর্যগ্রহণের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। রাজশাহীর সাইদপুর এলাকায় মসজিদে আদায় করা হয় সালাতুল খুসুফের নামাজ।

রাজশাহী থেকে আবদুুল্লাহ জানান, আমরা দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছি। প্রায় ৪০ মিনিট সময় লেগেছে আমাদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে।

আত-তাক্বওয়া মাসজিদ এন্ড ইসলামিক সেন্টার কুমারপাড়া, সিলেটে এ নামাজের ইমামতি করেন, মাওলানা আব্দুর রহমান বিন মুবারক। তিনি মুসল্লিদের সামনে নামাজের আগে খুতবা দেন। খুতবায় বলেন, সূর্যগ্রহনের সময় রসূলুল্লাহ সা. দীর্ঘ করে সালাত কুসূফ পড়তেন।

বাকিদেরকে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এর ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার জন্য। আল্লাহর আনুগত্য ও ভীতি তৈরি করুন মনে। আল্লাহর কোন সৃষ্টির অনুগত্য করবেন না। এগুলো আল্লাহর নিদর্শন মাত্র। বিজ্ঞানও জেনে গেছে এই সময় বিভিন্ন পাথর পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসে পৃথিবী ধ্বংসের কারনও হতে পারে।

উল্লেখ্য, সূর্যগ্রহণের সময় চন্দ্রটি পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে বলে সূর্যগ্রহণ হয়। ব্যাস এতটুকুই! এখানে কান্নাকাটি করার কি আছে? মজার বিষয় হল,বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় যখন এ বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু হলো, তখন মহানবীর সা. এই আমলের তাৎপর্য বেরিয়ে আসলো।

আধুনিক সৌর বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহ দু’টি কক্ষপথের মধ্যবলয়ে রয়েছে এস্টিরয়ে(Asteroid), মিটিওরিট (Meteorite) ও উল্কাপিন্ড প্রভৃতি ভাসমান পাথরের এক সুবিশাল বেল্ট, এগুলোকে এককথায় গ্রহানুপুঞ্জ বলা হয়।

গ্রহানুপুঞ্জের এইবেল্ট (Belt) আবিষ্কৃত হয় ১৮০১ সালে। এক একটা ঝুলন্ত পাথরের ব্যাস ১২০ মাইল থেকে ৪৫০ মাইল। বিজ্ঞানীরা আজ পাথরের এই ঝুলন্ত বেল্ট নিয়ে শঙ্কিত। কখন জানি এ বেল্ট থেকে কোন পাথর নিক্ষিপ্ত হয়ে পৃথিবীর বুকে আঘাত হানে, যা পৃথিবীর জন্য ধ্বংসের কারণ হয় কিনা?

গ্রহানুপুঞ্জের পাথর খন্ডগুলোর মাঝে সংঘর্ষের ফলে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরখন্ড প্রতিনিয়তই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। কিন্তু সেগুলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে এসে জ্বলে ভস্ম হয়ে যায়। কিন্তু বৃহদাকার পাথর খন্ডগুলো যদি পৃথিবীতে আঘাত করে তাহলে কি হবে?

প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে এমনই একটি পাথর আঘাত হেনেছিলো। এতে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর তাবৎ উদ্ভিদ লতা গুল্ম সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। আপনজনের (Arizon) এ যে উল্কাপিন্ড এসে পড়েছিলো তার কারণে পৃথিবীতে যে গর্ত হয়েছিলো তার গভীরতা ৬০০ ফুট এবং প্রস্থ ৩৮০০ ফুট।

বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণের সময় ঝুলন্ত পাথরগুলো পৃথিবীতে ছুটে এসে আঘাত হানার আশংকা বেশী থাকে। কারণ হচ্ছে,এসময় সূর্য,চন্দ্র ও পৃথিবী একই সমান্তরালে,একই অক্ষ বরাবর থাকে ।ফলে তিনটির মধ্যাকর্ষণ শক্তি একত্রিত হয়ে ত্রিশক্তিতে রুপান্তরিত হয়।

ঢাকায় সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ সময় (বিএসটি) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বেলা ২টা ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হয়।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ