সুফিয়ান ফারাবী
সাভার থেকে
সাভারে গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টসের শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন বাকি। এছাড়াও ওভারটাইম বাকি আরো কয়েক মাসের। পাওনা বেতনের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই ছোটখাটো বিক্ষোভ করে আসছিল গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা।
সর্বশেষ আজ (২৪ ডিসেম্বর) বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মাত্রা তীব্র হয়। বকেয়া বেতনের দাবিতে আজ সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজ না করার ঘোষণা দেন। তারা দাবি তোলেন, আমাদের বেতন পরিশোধ না করলে আমরা কাজে হাত দেবনা।
বেলা এগারোটার দিকে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ মাইকে ঘোষণা করেন, আগামী বৃহস্পতিবারে অর্ধেক বেতন পরিশোধ করবেন। আর বাকি টাকা পরিশোধ করবেন ৩০ তারিখে।
এতে আপত্তি তোলেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে হট্টগোল সৃষ্টি হয়ে শ্রমিকরা দুপুর বারোটার দিকে আন্দোলনে নেমে পড়েন।
অবস্থা বেগতিক দেখে গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টসের কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্টরির উভয় প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। যাতে ভেতরে অবস্থানরত শ্রমিকরা বাহিরে বের হতে না পারে।

এরপর বাহিরে আন্দোলনরত শ্রমিকদের একটি অংশ গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টসের পেছনের গেটে ভাঙচুর চালায় এবং একপর্যায়ে গেট খুলতে সক্ষম হন তারা। তখন গেট থেকে ৩০ গজ সামনে অবস্থান করছিল পুলিশের একটি টিম।
শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশদেরকে নানারকম আপত্তিকর কথা বলতে থাকেন। এতে পরিস্থিতি ক্রমশ আয়ত্বের বাইরে চলে যেতে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ শ্রমিকদেরকে ধাওয়া দেন।
অপরদিকে ভেতরে অবস্থানরত শ্রমিকরা গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টসের জিএম জাহিদের উপর হামলা করে বসে। এতে তিনি বেশ আহত হন। এছাড়াও আরো দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপর আন্দোলনরত শ্রমিকরা ভেতরেই হামলা করে বসে। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে আসা হয়। তবে জি এম জাহিদকে বের করা যায়নি বলে জানা যায়।
এই ঘটনায় কয়েকজন আন্দোলনরত শ্রমিকরা আহত হয়েছেন বলেও জানা যায়।

পুলিশের ধাওয়ার পরেও আন্দোলন অব্যাহত রেখে দুপুর ১ টা ১৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের একাংশ অবরোধ করে বসে। তবে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারেনি তারা। পুলিশ তাদেরকে আবারো ধাওয়া করে ছন্নছাড়া করে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, দীর্ঘ সাত-আট মাস যাবত আমাদেরকে নির্ধারিত সময়ে বেতন দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। প্রতি মাসে বেতন দিচ্ছে ২৫-৩০ তারিখে। গত দুমাস যাবত কোন প্রকার টাকা দিচ্ছে না তারা। আজকাল করতে করতে আজ মাসের ২৪ তারিখ। ওভারটাইম তো দূরের কথা নির্ধারিত বেতন তারা আমাদেরকে দিচ্ছে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে পড়েছি। ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ তোয়ারে কথা বুঝবে না।
তবে শ্রমিকদের কেউ কেউ অভিযোগের তীর ছুটছেন জিএম জাহিদের দিকে। তারা বলছেন, মালিক বেতনের টাকা পাঠিয়ে দিয়েছেন গত সাত তারিখে। কিন্তু জি এম জাহিদ তা দিতে অবহেলা করছেন।
এ বিষয়ে জি এম জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গ্লোবাল ফ্যাশন গার্মেন্টসের কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে শ্রমিক নেতারা বলছেন আমাদের বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত আমরা কাজ করবো না। এবং আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আরএম/