আওয়ার ইসলাম: প্রথমবারের মতো ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসির বাইরে গিয়ে বিশ্বের প্রধান প্রধান মুসলিম রাষ্ট্রের নেতাদের এক জায়গায় একত্র করেছে মালয়েশিয়া। বিশ্ব জুড়ে মুসলিমদের যেসব সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে তা নিয়ে আলোচনার জন্য কুয়ালালামপুর সামিট-২০১৯ নামের এই সম্মেলন বুধবার শুরু হয়েছে।
তবে সৌদি আরব এই সম্মেলনটি বর্জন করেছে। আর দেশটির অনুরোধে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানও এই সম্মেলনে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ইমরান খানের কয়েক দিন আগের বৈঠকের পর এমন সিদ্ধান্ত এল পাকিস্তানের।
তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সৌদির চাপে ইমরান খান কুয়ালালামপুরে বৈঠকে যাচ্ছেন না বলে যে খবর প্রকাশ করেছে তা মিথ্যা বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির।
এদিকে কুয়ালালামপুরের উদ্যোগে এমন একটি সম্মেলন আয়োজনের নিন্দা করেছে সৌদি আরব। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মুসলিমদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য কুয়ালামপুর সম্মেলন সঠিক ফোরাম নয়।
দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ মালয় প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে ফোনালাপে মুসলিমদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ওআইসির মাধ্যমে আলোচনা হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন।
এদিকে মালয়েশিয়ায় এই সম্মেলন নিয়ে সৌদি আরব ‘খুব উদ্বিগ্ন’ হয়ে আছে বলে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশটির একটি কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উদীয়মান প্রভাববিস্তারি দেশ ইরান ও সৌদি আরবের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়া কাতার অংশ নিচ্ছে মাহাথির মোহাম্মদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে। এটাকেই সৌদির বিরোধীতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, আজ থেকে কুয়ালালামপুরে শুরু হয়েছে পাঁচটি মুসলিম দেশকে নিয়ে আয়োজিত ‘কুয়ালালামপুর সামিট-২০১৯’। মুসলিম বিশ্বের চলমান সংকট নিরসন এবং আগামী দিনের কর্মকৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শীর্ষ এ ইসলামি সম্মেলন।
‘দ্য কুয়ালালামপুর সামিট ২০১৯’ শীর্ষক সম্মেলনটি আগামী ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়ালালামপুর কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সামিটে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন। এ সম্মেলনে ৫২ দেশের চার শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেবেন। এতে ২৫০ বিদেশিসহ চার শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিয়েচেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, কাতারের আমির শায়খ তামিম বিন হাম্মাদ থানি, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিসহ মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতা, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
পশ্চিমা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ, বিরোধী প্রচারণা ও মুসলিম বিশ্বের চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আলোচনা করবেন শীর্ষ নেতারা। ‘রাহমাতুল-লিল-আলামিন’কে (জগৎসমূহের জন্য রহমত) জাতীয় নীতিনির্ধারণ এবং মাকাসিদুশ-শারিয়ার আলোকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে সম্মেলনে।
এ ছাড়া মুসলিম বিশ্বের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও সুশাসন, সংস্কৃতি ও পরিচয়, সুবিচার ও স্বাধীনতা, শান্তি, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হবে। - সূত্র : রয়টার্স, স্টার লাইন, মালয় মেইল ও এফএমটি নিউজ, ডন, ডেইলি জং।
আরএম/