রকিব মুহাম্মদ ।।
হাসপাতালের দরজার সামনে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আলেমরা। তাদের চেহারা মলিন, নির্বাক নয়নে কিছু একটার প্রত্যাশায় দাঁড়িয়ে। না কোনো কিছু পাওয়ার জন্য নয়, সেদিকে তাদের কোনোই খেয়াল নেই। অপেক্ষা শুধু কখন সুস্থ হয়ে উঠবে তাদের প্রিয় মানুষটি। হ্যাঁ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বেডেই দিন পার করছেন দেশেরর শীর্ষ মুরুব্বি আলেম আল্লামা আশরাফ আলী।
বিশিষ্ট এ আলেমদীন ও শায়খুল হাদিস দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসায় হাদিসের দরস দিচ্ছেন। প্রিন্সিপাল হিসেবে এই মাদরাসাটিকে সুনামের সাথেই পরিচালনা করে আসছেন। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ অথরিটি আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
হজরতের ছেলে মাওলানা সাব্বির আহমদের বরাতে জানা যায়, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা আশরাফ আলীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে কিছুটা উন্নতির দিকে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ থেকে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
মাওলানা সাব্বির আহমদ জানান. আজ দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম, হেফজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী মুঠোফোনে আল্লামা আশরাফ আলীর স্বাস্থের খোঁজ খবর নিয়েছেন। তার সুস্থতার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রাণ ভরে দোয়া করেছেন। এসময় আল্লামা আশরাফ আলী আলেমদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার ইত্তেবায়ে সুন্নতের পথ অনুসরণ করবেন এবং তাকওয়ার ওপর ইস্তেকামাত (অবিচল) থাকবেন।
এরই মধ্যে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে আল্লামা আশরাফ আলীকে দেখতে এসেছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় শ্রদ্ধাভাজন এ আলেম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে দু’টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলেও জানান তিনি।

প্রথমত কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি প্রদান ও তাবলিগ জামাতের দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষভাবে শুকরিয়া জানিয়েছেন আল্লামা আশরাফ আলী। দ্বিতীয়ত, কাদিয়ানী ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ৫৭টি দেশে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। আপনার ও সরকারের কাছে দেশের ওলামায়ে কেরামের আবেদন এ দেশেও যেন তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণা করা হয়।’
যাত্রাবাড়ি মাদরাসার মুহতামিম ও মজলিসে দাওয়াতুল হকের আমির মহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানও তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এসময় তিনি রোগী দেখার দোয়া “أَسْأَلُ اللهَ العَظيمَ، رَبَّ العَرْشِ العَظِيمِ، أَنْ يَشْفِيَكَ” পড়েন। পরে আল্লামা মাহমুদূল হাসানকে উদ্দেশ্য করে আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, আপনিই আমাদের মহিউস সুন্নাহ! আল্লামা শাহ আবরারুল হক রহ. আপনাকে মুহিউস সুন্নাহ বলেছেন। আপনার দোয়া শুনলে দিলে আছর (প্রভাব) হয়। আপনার মধ্যে সুন্নত ও ইসতেকামতের সমন্বয় আছে, এর মাধ্যমে উন্নতি হয়।
এছাড়াও আল্লামা আশরাফ আলীকে দেখতে যান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসিচব মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি ইমাদুদ্দিন, মুফতি নুরুল আমিন ও মাওলানা আব্দুস সালাম, কওমি কাউন্সিলিরে সভাপতি মাওলানা আব্দুস সামাদ, আল্লামা আশরাফ আলীর জামাতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, আম্বরশাহ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম।
আরএম/