মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

মা আমার পৃথিবী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আল মামুন নূর । । 

আজ তিন মাস মা আমার কাছে। শহরে থাকায় প্রচণ্ডরকম কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কেবল আমার দেখভালের জন্য এক মুহূর্তের জন্যও বাসা থেকে কোথাও যাননি তিনি। পাশেই আপুদের বাসা; কিন্তু আমি কখন বাসায় আসি, কখন যাই— এই চিন্তায় বাসা থেকে তেমন কোথাও বেরোননি। কোথাও গেলেও আমি বাসায় ফেরার আগেই আবার চলে আসছেন।

সকালবেলা ফজর পড়ে বাসায় ফিরেই রোজ দেখেছি আমার জন্য খাবার প্রস্তুত। সত্তরোর্ধ বয়সী মা আমার শারীরিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও এতো সকালে কীভাবে এগুলো করেছেন, তা ভেবে অবাক হয়েছি প্রতিনিয়ত। বাসা থেকে বেরোচ্ছি, এমন মুহূর্তে বলেন—‘একটুখানি হা কর, বেদানাগুলো খেতে খেতে যা।' একটা পেয়ারা হাতে দিয়ে বলেন—‘সময় করে খেয়ে নিস।'

মাঝেমধ্যে সত্যিই বিরক্ত হয়েছি এই বলে, এতো কিছু খাওয়া যায় নাকি? কর্মস্থলে পৌঁছুনোর পরে ১০ টার দিকে রোজ মায়ের ফোন—‘কিছু খেয়েছিস? একটু পানি খা, পিয়নকে দিয়ে বাইরে থেকে কিছু একটা আনিয়ে নে।'

দুটো বাজতে না বাজতেই আবার ফোন—‘কী খাবি দুপুরে? পেট ভরে খাবি, কাজ পরে, আগে খেয়ে নে।' মাঝেমধ্যে বিরক্ত হয়ে বেয়াদবের মতো বলেছি—‘মা! কাজ করি তো, এতোবার ফোন দেন কেনো?' কিছু না বলে ফোনটা রেখে দিয়েছেন; কিন্তু ফোন দেওয়া বন্ধ হ নি একটিবারের জন্যও।

প্রত্যেকটা মুহূর্তে কোথায় আছি, কী করছি, তার আপডেট মাকে দিতে হয়েছে। সারাটা দিন একা একা বাসায় আমার ফেরার অপেক্ষায় থেকেছেন। কাজের প্রেসারে বাসায় ফিরতে প্রতিনিয়ত রাত ১০টা-১১টা বেজেছে। ফজর থেকে নিয়ে এই পুরো সময়টা বাসায় একা একা থেকেছেন; দিনের পর দিন, শুধু আমার টেককেয়ারের জন্য। কোথাও গেলে হয়তো আমি বাসায় এসে না খেয়ে ঘুমিয়ে যাবো, এই চিন্তায় বাসা থেকে বেরোন নি।

একদিন রাস্তায় প্রচণ্ডরকম জ্যাম থাকায় বাসায় ফিরেছি রাত সাড়ে বারোটা বাজে। দরোজায় একবার নক করার সঙ্গে সঙ্গে দরোজা খুলে গেলো। মা দাঁড়িয়ে ছিলেন দরোজার ওপাশেই। ঢুকে ফ্রেশ হয়ে মাকে বললাম—‘খেয়ে এসেছি, আর কিছু খাবো না রাতে।'

কিছুক্ষণ পরে মায়ের রুমে গিয়ে দেখি তিনি খাবার খাচ্ছেন। বললাম—‘এতোক্ষণ আপনি কেনো না খেয়ে ছিলেন?' বললেন—‘তুই বাসায় ফেরার আগে আমি কিচ্ছুটি খেতে পারি না।' আমি জাস্ট আমার রুমে এসে কিছুক্ষণ চোখের জল ফেললাম এই ভেবে, কারণে-অকারণে এই মাকে কতো কষ্ট দিই!

রাতে যখন খাবার খেয়ে ঘুমোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছি, এমন সময় প্রতিনিয়ত ফলের ট্রে হাতে মা আস্তে করে মাথার কাছে এসে বসেছেন। আনার ছিলতে ছিলতে মায়ের প্রশ্ন—‘তোর খারাপ লাগছে নাকি? মুখটা কেমন শুকনো শুকনো লাগছে! মশা আছে নাকি? মশারি দেবো? দেখি হা কর, আনার খা। এখানে বোতলে পানি রেখে গেলাম, খেয়ে নিস।'

বেয়াদবের মতো কিছুক্ষণ পরে মাকে ডাক দিয়ে বলেছি—‘এগুলো নিয়ে যান, খাবো না।' ট্রে নিতে নিতে কাঁথা বের করে নিজ হাতে আমার গায়ে চড়িয়ে দিয়েছেন৷ এরপর আমি যখন ঘুমিয়ে পড়েছি, তখন মা ঘুমোতে গেছেন। রোজ সকালে উঠে দেখেছি মোবাইল, ল্যাপটপ আ