মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
মুহাদ্দিস ও লেখক
একটা সময় বই প্রকাশিত হওয়া এখনকার মতো সহজ ছিল না। সেটা ১৯৯৪-৯৫ সালের কথা। আমার প্রথম বোর্ডবাঁধাই বই প্রকাশিত হয় তখন। হজরত থানবি রহ.-এর রাজনৈতিক চিন্তাধারা। আল্লামা তাকি উসমানি সাহেবের লেখা হাকিমুল উম্মত কে সিয়াসি আফকার-এর তরজমা করেছিলাম। প্রথমে মাসিক পাথেয়তে ধারাবাহিক ছাপা হয়। পরে বই প্রকাশিত হয়।
মাওলানা নোমান সাহেব চট্টগ্রামের মানুষ। ঢাকা বারিধারা মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। একেবারে ব্যক্তিগত আবেগ থেকে তিনি কাজটা করেছিলেন। ইসলামিক একাডেমির নামে ছেপেছিলেন। ভদ্রলোক নিজে একজন কাতেব (লেখক) ছিলেন।
বইটা হাতে পেয়ে আমার যে আনন্দ-আগ্রহ-উত্তেজনা, মানুষ সেটা যেভাবে গ্রহণ করেছিল, সব মিলিয়ে অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করেছিল। ওই সময় বই প্রকাশের চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে- এটা আমার চিন্তায় ছিল না। তখন একটা বই প্রকাশিত হওয়া ঘটনা ছিল।
বইটা যখন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.-এর হাতে দিলাম, বইটা হাতে নিয়ে তিনি চুমু খেলেন, বুকে ধরলেন, কপালে লাগালেন, একটা অসাধারণ ঘটনা আরকি! সেই সঙ্গে বইয়ের নাম পড়ে প্রথমে বললেন, থানবির রাজনৈতিক চিন্তাধারা! কী এটা?
বললাম, আমি তরজমা করেছি। তখন বললেন, তাহলে ঠিক আছে। আবার চুমু খেলেন। তিনি ভাবলেন, একজন ছেলে মানুষ একটা কাজ করেছে, তাকে খুশি করা দরকার, তার কাজের মূল্যায়ন করা উচিত। এরপর বললেন, আকবর এলাহাবাদির কবিতাটা পড়েছেন? আমি বললাম- জ্বি, পড়েছি।
তিনি বললেন, আকবর এলাহাবাদি বলেছেন- আয় দিলে মুহতাত! ডরতা হায় জবাঁ পে হক লানে ছে
আওর মুরিদে থানবি ডরতে হ্যাঁ থানেওয়ালে ছে।
থানবি মাসলাকের লোকেরা আবার রাজনীতির কী বুঝে, এরা তো পুলিশের নাম শুনলে দৌঁড়ায়। হজরত থানবির আবার রাজনৈতিক চিন্তাধারা কী? মানে বিষয়টা সমূলে প্রত্যাখ্যান করলেন। আবার একজন ছেলে মানুষ কাজটা করেছে, তাই কাজটাকে এতোটাই গুরুত্ব দিচ্ছেন যে, বারবার চুমু খাচ্ছেন।
এরপরে তো আল্লাহর মেহেরবানিতে নানা রকমের বই বেরিয়েছে। কিন্তু প্রথম বই প্রকাশের যে আনন্দ, সেটা আমার জীবনজুড়ে মিশে আছে।
আমার লেখালেখির জীবনে কষ্টের স্মৃতি খুব একটা নেই। এর একটা বড় কারণ হলো, কোনো একটা কাজ এখনই করতে হবে বা হয়ে যেতে হবে, একটা বই প্রস্তুত করেছি এখনই প্রকাশ করতে হবে- মানুষের এমন একটা উত্তেজনা থাকে না? এটা আমার স্বভাবে নেই।
নাম নেওয়া ছাড়া বলি, একবার একà