শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৭ রজব ১৪৪৭


বালাকোটে 'অক্ষত' জইশয়ের মাদরাসা; ভারতের দাবি মিথ্যা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: বালাকোটে জইশই মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবির নিয়ে ভারত সরকারের সাজানো নাটক ফাঁস হয়ে গেছে। ভারত এতদিন দাবি জানিয়ে আসছিল, বালাকোটে জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলা চালিয়ে ৩ শতাধিক জঙ্গিকে খতম করেছে দেশটির বিমান বাহিনী। ভারতের এ দাবি মিথ্যে প্রমাণ করল ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, যে প্রশিক্ষণ শিবিরে ভারত বিমান হামলা চালিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করে আসছে সেখানে জইশ পরিচালিত মাদরাসা ভবন এখনও ‘অক্ষত’ দাঁড়িয়ে আছে।

মঙ্গলবার উচ্চ রেজ্যুলুশনের স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক বেসরকারি স্যাটেলাইট অপারেটর প্ল্যানেট ল্যাব ইনকর্পোরেটেডের সরবরাহ করা ছবিগুলোতে ভারতের বোমা হামলার ছয় দিন পর ৪ মার্চ ওই মাদরাসার স্থানটিতে অন্তত ছয়টি ভবন দেখা গেছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জইশ-ই-মহম্মদ নামে একটি সংগঠন হামলা চালিয়ে ৪৬ জন সামরিক বাহিনীর লোককে হত্যা করেছে।এ ঘটনায় দেশটি পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায়।

ভারত এ হামলায় ৩০০ জঙ্গিকে হত্যা করে বলে দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে এ হামলায় কোনো হতাহত হয়নি বলে জানায় পাকিস্তান।

ওই হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারিভাবে কোনো স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ না করলে জনমতে ভারতের কথিত বিমান হামলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তবে রয়টার্স যে প্ল্যানেট ল্যাবের ছবি প্রকাশ করেছে সেখানে দেখা যায়, ভারত সরকার যেখানে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে সেখানে মাদরাসার ছয়টি ভবন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

খবরে বলা হয়, এই ছবিগুলোর সঙ্গে ২০১৮ সালের এপ্রিলে গ্রহণ করা স্যাটেলাইট ছবিগুলোর তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ভবনগুলোর ছাদে দৃষ্টিগোচর হওয়ার মতো কোনো ছিদ্র নেই, দাহ্য পদার্থের আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই, বিস্ফোরণের ধাক্কায় উড়ে যাওয়া কোনো দেয়াল নেই, মাদরাসার আশপাশে উপড়ে পড়া কোনো গাছ নেই এমনকি বিমান হামলার অন্য কোনো চিহ্নই নেই।

ফলে এই ছবিগুলো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের দাবির বিষয়ে আরও সন্দেহ তৈরি করেছে। একইসঙ্গে সরকারকে বেশ বিব্রত করছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে যা দেখা গেছে এবং এসব ছবি তাদের সরকারি বিবৃতিকে দুর্বল করে দিবে কি না সে বিষয়ে গত কয়েকদিন ধরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইমেইলে প্রশ্ন করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ