সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন :
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনে এক আলোকিত অধ্যায়। আমাদের চেতনা জুড়ে ছড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এদেশের স্বাধীনতা।
আমাদের শিল্প-সাহিত্য চর্চাকেও স্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত করেছে মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর বাংলা সাহিত্যে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গল্প, কবিতা, ছড়া, উপন্যাস আর নাটক লেখার পালা। গত ৪৭ বছরে আমরা তাই পেয়েছি অসংখ্য মননশীল সাহিত্যকর্ম।
উপন্যাস দিয়েই শুরু করা যাক। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে নানা যৌক্তিক কারণে বদলেছে আমাদের উপন্যাসের প্রেক্ষাপট, পটভূমি। সেইসঙ্গে বদলেছে চরিত্রের চিত্রায়ণের দৃশ্যপট।
বলা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে আমাদের ঔপন্যাসিকরা সন্ধান করেছেন এক নতুন শিল্পরীতির। যে রীতিতে তাঁরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের পাশাপাশি জনমানুষের আকাঙ্খার চিত্র তুলে ধরেছেন পাঠক সমীপে।
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাসগুলোতে আমরা শুধু গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নিরস্ত্র মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, অবরুদ্ধ মানুষের যন্ত্রণাদগ্ধ যাপিত জীবন, বন্দি শিবিরে অবর্ণনীয় নিপীড়ন, নারী ধর্ষণের বর্ণনাই পাই না। বরং মানুষের নতুনভাবে জেগে ওঠার বীজমন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতান্ত্রিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্রের সার্থক প্রতিফলনও দেখতে পাই।
আমাদের উপন্যাসে এ ধারার উল্লেখযোগ্য সংযোজন হচ্ছে আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল রোটি আওরত’, আমজাদ হোসেনের ‘অবেলায় অসময়’, মাহমুদুল হকের ‘জীবন আমার বোন’, সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের ‘জীবনতরু’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’, হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘তিমি’, রিজিয়া রহমানের ‘একটি ফুলের জন্য’, শওকত আলীর ‘অবশেষে প্রপাত’ ও ‘যাত্রা’, রাহাত খানের ‘ছায়া দম্পতি’, শওকত ওসমানের ‘দুই সৈনিক’, ‘জাহান্নাম হইতে বিদায়’ ও ‘নেকড়ে অরণ্য’, রাবেয়া খাতুনের ‘ফেরারি সূর্য’, আখতারুজ্জামাà¦