মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

আহমেদ ইশতিয়াকের উপন্যাস ‘মরিবার হলো তার সাধ’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

যিয়াদ বিন সাঈদ: মরিবার হলো তার সাধ। নামটা শুনলে ভেতরে পুলক অনুভব করা যায়। অনুভব করা যায় বিস্তৃত অর্থবহ কোনো রহস্যময়তা। লেখক আহমেদ ইশতিয়াক এমনই এক রহস্য, এমনই এক ঘোরের জন্ম দিয়েছেন ‘মরিবার হল তার সাধ’র ভেতর দিয়ে। ঘোরলাগা গদ্যে দরদে তড়পানো সাবলীল ভঙ্গিমায় তিনি আমাদের ক্রমাগত ঠেলে দিয়েছেন রহস্যের এক নিপুণ অন্তর্জালে। যেনবা তিনি হুমায়ূন। অথবা কখনো শওকত ওসমান।

একজন সাইকোপ্যাথ হাসান। খুব ছোটবেলায় পৃথিবীটাকে চেনার অনেক আগে হারিয়ে ফেলে তার মাথা গুঁজে রাখবার একমাত্র নিবাস, মাকে। অপরিপক্ব মস্তিষ্ক হয়ে যায় তখন আরও বিচ্ছিন্ন। পৃথিবী অন্ধকারময়তায় ভরে ওঠে। এরপর এক ঝরঝরে বৃষ্টির রাতে হাসান হারিয়ে ফেলে তার বাবাকেও। সে থেকেই হাসানকে আঁকড়ে ধরে এক প্রচণ্ড মানসিক অসুস্থতা। এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।

‘মরিবার হলো তার সাধ’ বইটি বিভিন্ন দিক থেকেই আমাদের আবেগমথিত করে তুলতে পারে। বইয়ের প্রথম দিকেই যখন ঝকঝকে শব্দ-ভঙ্গিমায় আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়

“তোমার শরীরে আকাশ
নীল রঙের শাড়ি। আমি দেখি,
জনম জনম ধরে দেখি
আকাশ তো শুধু দেখার জন্য
ছুঁয়ে দেখার জন্য তো নয়।”

তখন আমাদের আরও চোখ কান খুলে বসতে হয়। কী দুর্দান্ত এক কবিতা। এ কবিতাকে ঘিরে আছে বিস্তর এক দৃশ্যপট। প্রেম। মুখে না বলে লুকিয়ে ফেলা আবেগ। বইটিতে আছে এদিকওদিক দিয়ে অনেক প্রেম। একবার মীরা। আরেকবার চিত্রা। সবই ঘোর। সবই রহস্য।

হাসান ছেলেটির এ অসুস্থতাকে কেন্দ্র করেই মূলত উপন্যাস। ছোটবেলায় মা ধর্ষণের শিকার। হাসানের বুকে দাউদাউ আগুন। মানসিক অস্থিরতা। প্রতিশোধ নেবার জন্যে প্রচণ্ড প্রচেষ্টা। এরই মাঝে প্রেমের জালে আটকে যাওয়া। নীলক্ষেতের ঝকঝকে সন্ধ্যায় চিত্রার দেখে পেয়ে হাসানের উতলা মন। এগুলোই মূলত গল্প। তবে এরপর আছে আরও মুগ্ধতা। এর মাঝেও আছে চরম আকর্ষণ।

‘মরিবার হলো তার সাধ’ পড়ে আমি আহমেদ ইশতিয়াক কে যে দৃষ্টিতে দেখতাম আগে, তার চাইতে আরও গভীর এবং আরও প্রেমের দৃষ্টিতে দেখতে চাইলাম। যেনবা তার লেখার এ মাধুর্যতার মাঝে আমি দেখতে পেয়েছি জ্বলজ্বল করতে থাকা নক্ষত্র। নতুনত্ব কিংবা ভিন্ন আমেজে নতুন কোনো সুর। পাঠককে বলি, ‘মরিবার হল তার সাধ’এ নিশ্চিত আপনি আটকে যাবেন অথৈ কোনো সমুদ্রে। এক সময় যখন শেষ হয়ে যাবে তিরতির করে সবক’টি পৃষ্ঠা, তখন আপনার ভেতরে মনে হবে, আরও একটু কেন দীর্ঘ হলোনা ‘মরিবার হল তার সাধ’। লেখককে শুভকামনা।

বইঃ মরিবার হলো তার সাধ। লেখকঃ আহমেদ ইশতিয়াক
প্রকাশকঃ নীল সাধু। প্রচ্ছদঃ নূরুল ইসলাম
পৃষ্ঠাঃ ৫৫


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ