আলোচিত ইসলামী ব্যাংককে বদলাতে এসে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা নিজেরাই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন।সরকারের সাবেক সচিব আরাস্তু খান দায়িত্ব নেওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই ব্যাংকটির পরিচালকরা দু’টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
এর ফলে ব্যাংকটিতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘দ্বন্দ্ব পরিচালনা পর্ষদে হলেও এর প্রভাব পড়ছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনাতেও। পর্ষদের চলমান দ্বন্দ্ব নিরসন না হলে এর প্রভাব গ্রাহক পর্যায়ও পড়তে পারে।
ইসলামী ব্যাংকের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিচালনা পর্ষদে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থিতিশীলতা না আসলে পুরো ব্যাংকে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘৬ মাস আগে ব্যাংকের শীর্ষ মহলে যে পরিবর্তন হয়েছে, তার রেশ এখনও রয়ে গেছে। নতুন করে এখন যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে, তা গ্রাহক পর্যায়ে হতাশার সৃষ্টি করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কেউই অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলমকে পছন্দ করছেন না। তবে অধ্যাপক আহসানুল আলম যে সব বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করছেন, এর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা হয়ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’ আরাস্তু খান বলেন, ‘তার মিথ্যাচারের কারণে প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ ড্যামেজ হয়েছে। সরকারের ইমেজ ড্যামেজ হয়েছে। ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টের ইমেজও ড্যামেজ করা হয়েছে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার আরাস্তু খান সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারম্যান ভিত্তিহীন তথ্য সংবাদ মাধ্যমে দিয়েছেন।’ সৈয়দ আহসানুল আলমকে পদত্যাগের জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে যে অভিযোগ তিনি করেছেন, তাও ভিত্তিহীন বলে মনে করেন আরাস্তু খান।
এ প্রসঙ্গে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান তাকে নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। এ কারণে তার ওপর বিরক্ত হয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকরা শনিবার বসেছিলেন। সেখানে তারা ডাইরেক্টস ফোরাম গঠন করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, যেকোনও পরিচালককে পদত্যাগ করানো হলে এক সঙ্গে একডজন পরিচালক পদত্যাগ করবেন।’<