শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬ ।। ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী না দেওয়ার আহ্বান সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের ধুপখোলা মাঠে দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) মহাসম্মেলন আগামীকাল আল-আমিন—সবার বিশ্বাসের মানুষ নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন ড. ইউনূস সারাদেশে টানা ৫ দিন বজ্রবৃষ্টির আভাস ‎আগামীকাল নগর সম্মেলন সফল করার আহ্বান ইসলামী আন্দোলনের মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধীদল সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়েছে’ গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি ইসলামী আন্দোলনের আওয়ার ইসলামের আয়োজনে হাতের লেখা প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু কাল

রাকসুর ১৩ লাখ টাকা নিলেন ভিপি, হিসাব দিলেন ৯৯ হাজারের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সংগঠনের তহবিল থেকে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন তিনি। ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার ব্যয়ের হিসাব এখনো জমা দেওয়া হয়নি।

এছাড়া ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার সংগঠনের তহবিল থেকে প্রায় ২৪ লাখ টাকা নিলেও বিল-ভাউচার জমা দিয়েছেন ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার। ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা খরচের ভাউচার এখনও জমা দেননি তিনি।

ভিপি-জিএস ছাড়াও হিসাব না দেওয়ার তালিকায় নাম রয়েছে রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক, সাহিত্য ও বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকসহ আরও আটজন সম্পাদকের।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত একটি নথি থেকে জানা গেছে, চলতি মেয়াদে ৪২টি কর্মসূচিতে রাকসুর তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।

এর মধ্যে গত এপ্রিলে দেড় লাখ টাকার দাপ্তরিক খরচের হিসাব না দিয়ে জুলাইয়ে আবারও একই খাতে দুই লাখ টাকা নিয়েছেন মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। এ ছাড়া আগস্টে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানোর জন্য ৩ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা, ভিক্টরি রান ইয়ুথ রাকসুর জন্য ৩ লাখ এবং জুলাই জাদুঘর স্থাপন বাবদ নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার টাকা। এসব ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা হয়নি।

এ বিষয়ে মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘বিল-ভাউচার দ্রুত জমা দেওয়া ভালো। তবে আমার মেয়াদের মধ্যে অডিটের আগে জমা দিলেও হবে। তবে এর আগেই আমরা বিল-ভাউচার জমা দেব।’ বর্তমান রাকসুর মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর শেষ হবে।

সাত ধাপে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ নিয়েছেন জিএস আম্মার– ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। তিন ধাপের ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা খরচের ভাউচার জমা দেননি তিনি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপনের জন্য ৩ লাখ ২ হাজার, একই মাসের রাকসু সদস্যদের বাজেট ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও এপ্রিলে নেওয়া রাকসু সদস্যদের দাপ্তরিক খরচের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেন তিনি।

জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময়ে ব্যয়ের ওপরে ভ্যাট যোগ করা হবে, জানা ছিল না। ফলে সমন্বয় করে বিল করতে একটু সমস্যা হয়েছে। তা ছাড়া সদস্যদের মধ্যে একজন হিসাব না দেওয়ায় সম্মিলিত বাজেট জমা দেওয়া হয়নি। আরেকটি জমা দিয়েছি। 

রাকসু নেতাদের টাকা উত্তোলন ও পূর্ণা‌ঙ্গ বিল-ভাউচার জমা না দেওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, রাকসুর তহবিলে টাকা আসে শিক্ষার্থীদের চাঁদায়। ফলে এটা কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ নানা পেশার মানুষের কষ্টার্জিত টাকা। এই টাকা কেউ নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থে ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবে– এটা আমরা চাই না।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ সেতাউর রহমান বলেন, কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিল-ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। রাকসুর কিছু বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি। তাদের সঠিক নিয়মে এগুলো জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো টাকা ব্যয় করলে অবশ্যই বিল-ভাউচার জমা দিতে হবে। রাকসুকেও এই প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে। প্রতিটি সভায় হিসাবের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছি। রাকসুর প্রতিনিধিরা একটু সময় চেয়েছেন।

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ